শৈশবের পূজার স্মৃতি আজও অমলিন মন্দিরার
শৈশবের দুর্গাপূজা মানেই অন্য রকম আনন্দ। নতুন জামাকাপড়, মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো, মেলা আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য মুহূর্ত—সব মিলিয়ে পূজার দিনগুলো হয়ে ওঠে জীবনের সবচেয়ে মধুর স্মৃতির অংশ। বয়স বাড়ার সঙ্গে উৎসব উদ্যাপনের ধরন বদলায়, কিন্তু ছোটবেলার সে আনন্দ আর ভালো লাগার মুহূর্তগুলো মনের গভীরে থেকে যায়। চিত্রনায়িকা মন্দিরা চক্রবর্তীর কাছেও দুর্গাপূজা মানে তেমনই এক টুকরো শৈশব, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামের বাড়ি আর মায়ের হাতে দুর্গা প্রতিমা সাজানোর স্মৃতি।
প্রতিবছর দুর্গাপূজা এলেই গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন মন্দিরা। পূজার নানা আয়োজনের মধ্যে তার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগত দুর্গা প্রতিমা সাজানোর সময়টি। মা যখন প্রতিমাকে শাড়ি ও গয়না পরিয়ে সাজাতেন, তখন পাশে থেকে তাকেও সাহায্য করতেন মন্দিরা। মায়ের সঙ্গে প্রতিমা সাজানোর সে মুহূর্তগুলোই তার কাছে হয়ে উঠেছিল শৈশবের পূজার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি।
মন্দিরা বলেন, প্রতিবছর গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকতাম; বিশেষ করে যখন দুর্গা প্রতিমা গড়া হতো। ওই সময় আমার মা প্রতিমাকে গয়না, শাড়ি পরাতেন। সে কাজে আমার মাকে সাহায্য করতাম। আর এ কাজটি ছিলো সবচেয়ে ভালো লাগার। তাই অপেক্ষায় থাকতাম, কখন প্রতিমা সাজানো হবে।

শৈশবের সে স্মৃতির আবেশ এখনো কাটেনি মন্দিরার। সময়ের সঙ্গে জীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন, ব্যস্ততা বেড়েছে, বদলেছে উৎসব উপভোগের ধরন। তবু দুর্গাপূজার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরোনো দিনের অনুভূতিগুলো তার কাছে এখনও বিশেষ কিছু। পূজার আয়োজনের ভিড়ে আজও তিনি খুঁজে ফেরেন সে চেনা আনন্দ।
বর্তমানেও পূজার বিভিন্ন আয়োজন উপভোগ করেন এ চিত্রনায়িকা। বিশেষ করে জগন্নাথ হলসংলগ্ন মেলায় ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে তার। মেলার পরিবেশ, মানুষের আনাগোনা আর উৎসবের রঙিন আবহ তাকে টানে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে তার আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে দুর্গা প্রতিমার শৈল্পিক সৌন্দর্য।
প্রতিমার গড়ন, সাজসজ্জা এবং শিল্পীর সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠা শক্তির প্রকাশ মন্দিরাকে মুগ্ধ করে। তার কাছে দুর্গা প্রতিমা কেবল পূজার একটি অনুষঙ্গ নয়, বরং শিল্প, নান্দনিকতা ও উৎসবের আবেগের এক অপূর্ব সমন্বয়। তাই প্রতিমা সাজানোর মুহূর্ত থেকে শুরু করে মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন—সবকিছুর মধ্যেই তিনি খুঁজে পান আলাদা ভালো লাগা।
মন্দিরার মতো শৈশবের দুর্গাপূজার স্মৃতি আজও আগলে রেখেছেন বিনোদনজগতের আরও অনেকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন কণ্ঠশিল্পী বাপ্পা মজুমদার, বাঁধন সরকার পূজা, অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক ও ইয়াশ রোহান। প্রত্যেকের স্মৃতিতে পূজাকে ঘিরে রয়েছে নিজস্ব গল্প, প্রিয় মুহূর্ত আর আবেগের নানা অনুষঙ্গ।

শৈশবে উৎসবের আনন্দ ছিলো অনেকটাই সরল। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়া, মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো কিংবা মেলার ছোটখাটো আনন্দই ছিল বড় প্রাপ্তি। বড় হওয়ার পর জীবনের ব্যস্ততা বাড়লেও সে দিনগুলোর স্মৃতি হারিয়ে যায়নি। বরং সময়ের ব্যবধানে পুরোনো স্মৃতিগুলো আরও বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছে।
এবারের দুর্গাপূজাও তাই শুধু নতুন আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পুরোনো দিনের স্মৃতি, প্রিয়জনদের সান্নিধ্য এবং শৈশবের আনন্দকে সঙ্গে নিয়েই উৎসবের দিনগুলো রাঙিয়ে তুলতে চান তারা। কারণ, পূজার আনন্দ কেবল মণ্ডপের আলো, প্রতিমার সৌন্দর্য কিংবা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতায় আটকে থাকে না। এর সঙ্গে মিশে থাকে ফেলে আসা সময়ের গল্প, পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত আর হৃদয়ে জমে থাকা অসংখ্য মধুর স্মৃতি।
মন্দিরার কাছে মায়ের সঙ্গে দুর্গা প্রতিমা সাজানোর সে দিনগুলো তাই আজও বিশেষ। সময় বদলেছে, জীবনের পথও এগিয়েছে অনেক দূর; কিন্তু শৈশবের পূজার সেই ভালো লাগা এখনও তার মনে গেঁথে আছে। দুর্গাপূজা এলেই সে স্মৃতিগুলো যেন নতুন করে ফিরে আসে, ফিরিয়ে নিয়ে যায় ফেলে আসা এক আনন্দময় সময়ে।
সবার দেশ




























