আহত প্রায় ২০০
ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৫৩ সেনা
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৩ সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০০ জন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) আল-আলম সামরিক ঘাঁটিতে নতুন সেনাদের প্রশিক্ষণ চলাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার সময় ঘাঁটিতে তরুণ সেনাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ চলছিল। তারা শারীরিক কসরত ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে ঘাঁটিতে। এতে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে এ হামলায় ১৮ জন নিহত ও প্রায় ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিলো। পরে উদ্ধারকাজ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে অন্তত ৫৩ জন সেনার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হামলার পর ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সম্মুখযুদ্ধে সুবিধা করতে না পেরে হুথি বিদ্রোহীরা নতুন যোগ দেয়া তরুণ সেনাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। এ হামলার কঠোর জবাব দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্যদিকে, হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকেও হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাদের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা তাদের অভিযানের অংশ।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধের মধ্যে এ হামলা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাতের পাশাপাশি আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে আবারও লড়াই বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি বাহিনী হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারে ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে অভিযান শুরু করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে ওই অভিযান, হামলার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি এবং হতাহতের সর্বশেষ সংখ্যা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনের চলমান সংঘাতে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকটের শিকার হচ্ছেন। নতুন এ হামলার পর সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা




























