আত্মরক্ষায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলেন, দাবি ইশরাকের
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তার দাবি, মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আত্মরক্ষার স্বার্থে তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তারের পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি চলছিল। এ সময় একদল ব্যক্তি তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। এতে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নেন প্রতিমন্ত্রী ও তার নিরাপত্তারক্ষীরা।
বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভাও করেন। মাদকের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ইশরাক হোসেনের দাবি, মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবলসংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা সরকারি পত্র দেয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ এখনও বাস্তবায়নাধীন। পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নাগরিকদের অংশগ্রহণে সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি ওই এলাকায় যান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেন্ডারিয়া থানার পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
অভিযানে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এদিকে অভিযানের সময় প্রতিমন্ত্রীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একজন জনপ্রতিনিধির মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের আইনগত দিক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তের কথা জানিয়েছে। তদন্তে অস্ত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কোনও আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও, ছবি ও খণ্ডিত শিরোনামের মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতি তুলে ধরা হচ্ছে না।
প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ,
এসব প্রতিবেদনে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ছয়জনকে আটকের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। এতে অভিযানের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট আড়ালে থেকে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর বক্তব্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহনশীলতার নীতি বাস্তবায়নে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান ও সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সবার দেশ/কেএম




























