Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:০০, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সন্দেহভাজন মার্কিন নাগরিক 

এনায়েতকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের জাল! জড়িয়ে যাচ্ছে জাপা-পদস্থ পুলিশ

এনায়েতকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের জাল! জড়িয়ে যাচ্ছে জাপা-পদস্থ পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয়ে দীর্ঘদিন প্রতারণা চালানো এনায়েত করিম ওরফে মাসুদ করিম চৌধুরীকে ঘিরে একের পর এক নতুন তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে। তার গ্রেফতারের ঘটনায় পুলিশের এক ডিআইজি ও জাতীয় পার্টির এক নেতার নাম জড়িয়ে পড়ায় পুরো ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

গত ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় ফেরেন এনায়েত করিম। এরপর তিনি দুই দিন অবস্থান করেন রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে। ওই হোটেল বুকিং ও খরচ বহন করেন জাতীয় পার্টির রওশনপন্থী অংশের মহাসচিব পরিচয় দেওয়া কাজী মামুনুর রশিদ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দিয়েছেন এনায়েত করিম।

শনিবার সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হওয়ার পর তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রমনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ডে দিয়েছে। তার পাসপোর্টে উল্লেখ আছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রিমান্ডে এনে এনায়েত করিমকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ইতোমধ্যে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। প্রমাণ মিললে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, এনায়েত করিম ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদেশি গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা চালাচ্ছিলেন। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের তিনি কখনো ক্ষমতায় বসানোর আশ্বাস দিয়েছেন, কখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেনশিয়াল ডিনারে আমন্ত্রণের প্রলোভন দেখিয়েছেন। এর বিনিময়ে হাতিয়েছেন বিপুল অর্থ।

২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। ২০০১–০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ও তাকে প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। এরপর বিএনপিপন্থী এক সাংবাদিক নেতা এবং নতুন একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ হয়ে তিনি প্রতারণা অব্যাহত রাখেন। এমনকি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে বাঁচানোর আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেয়া, ২০২১ সালে র‍্যাব কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সুবিধা নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে কাজী মামুনুর রশিদ দাবি করেছেন, এনায়েত করিম তার পারিবারিক আত্মীয় এবং দীর্ঘদিনের পরিচিত। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গেও তার সখ্য ছিলো। বাংলাদেশে এলে তিনি এরশাদের সঙ্গে দেখা করতেন। তাই পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রেই হোটেলের বুকিং ও খরচ তিনি বহন করেছেন। প্রতারণা বা সরকার পতনের কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন মামুনুর রশিদ।

এনায়েত করিমকে গ্রেফতারের সময় তিনি একটি প্রাডো গাড়িতে ছিলেন, যা ভাড়া করেছিলেন এক ডিআইজি। সে ডিআইজির দেহরক্ষীও গাড়িতে ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে দেহরক্ষী জানিয়েছেন, তিনি কেবল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ পালন করেছেন। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, এনায়েত করিম পূর্বে ব্যাংকক ও নেপালে একাধিক বৈঠক করেছিলেন, যেখানে চাকরিচ্যুত ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ওই ডিআইজিও উপস্থিত ছিলেন। এতে গোটা ঘটনায় নতুন রহস্য তৈরি হয়েছে—ডিআইজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ