Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:১৬, ২ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ০১:১৬, ২ আগস্ট ২০২৬

কোনও দলের ‘পকেটে’ গেলে তাদের অপকর্মের দায়ও সংখ্যালঘুদের: নাহিদ 

কোনও দলের ‘পকেটে’ গেলে তাদের অপকর্মের দায়ও সংখ্যালঘুদের: নাহিদ 
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে সব দলের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবেন—এটাই প্রত্যাশা। কারণ কোনও একটি দলের ‘পকেটে’ চলে গেলে সে দলের সব অপরাধ ও অপকর্মের দায়ও শেষ পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর এসে পড়ে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘সম্প্রীতির জুলাই: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলো। সে চেতনা ধারণ করেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ খুঁজতে হবে। তিনি বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, গণ-অভ্যুত্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত নয়জন শহীদ হয়েছেন, যা তাদের আত্মত্যাগের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতাসীন ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে নিজেদের অসাম্প্রদায়িক এবং বিরোধীদের সাম্প্রদায়িক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। ভোটের আগে সংখ্যালঘু ইস্যুকে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এবারের নির্বাচনেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে বলে দাবি করেন এনসিপির এ নেতা।

আন্দোলন-পরবর্তী পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মন্দির পাহারা দিয়েছেন, যা সংকটকালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। তবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক, সেটি কেউই চায় না। তিনি বলেন, সংকটের সময় মানুষ বিভাজন ভুলে একসঙ্গে দাঁড়াতে পারে—জুলাই আন্দোলন তার প্রমাণ দিয়েছে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। শুধু গুম-খুন নয়, অতীতে সংখ্যালঘুদের জমি দখল, হামলা, নির্যাতন ও বৈষম্যের সব ঘটনারও সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিকল্প নেই। শক্তিশালী গণতন্ত্র, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও আরও সুদৃঢ় হবে এবং এর সুফল দেশের সব নাগরিক ভোগ করবেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে আবারও বিরোধী দল দমনের পুরোনো সংস্কৃতি ও ভয়ের পরিবেশ ফিরে আসছে। বর্তমান সংকটময় সময়ে জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন ছিলো। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত ছিলো সংস্কার, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য সফল করা এবং দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এজন্য বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

বার্সেলোনা ছাড়ছেন বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা তোরেস
কোনও দলের ‘পকেটে’ গেলে তাদের অপকর্মের দায়ও সংখ্যালঘুদের: নাহিদ
নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে এআই? বাড়ছে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
বাংলাদেশ থেকে আসা অমুসলিমরা অনুপ্রবেশকারী নন: শুভেন্দু
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত: মির্জা ফখরুল
ট্রাম্পের হুমকিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ইরান
নেতাদের কটূক্তিকারীদের শায়েস্তা করবে জনগণ: যুবদল সভাপতি
রাশিয়ার ক্যানসার টিকায় আশার বার্তা, প্রথম প্রয়োগেই ইতিবাচক সাড়া
গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: পেট্রোবাংলা
ধর্ষণ মামলায় যশোরে ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
নাশকতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে পুলিশের সতর্কতা জারি
ইরান যুদ্ধ থেকে পালানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প
গ্যাস সংকটে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন
গাছে বেঁধে নির্যাতন, অপমান সইতে না পেরে বিষপান ছাত্রীর
দুই মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক, মিললো ডিব্বা
সেউটা সীমান্তে ভয়াবহ অভিবাসী সংকট; নিহত বেড়ে ৫৭