আমদানি ব্যয়ে বাড়ছে চাপ
আইএমএফের শর্ত পূরণে বাড়ছে ডলারের দাম
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশে ধাপে ধাপে ডলারের বিনিময় হার বাড়ানো হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ডলারের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও রোববার আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর গ্রাহক পর্যায়ের বিক্রয়মূল্যেও।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রোববার আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ১৫ পয়সা বেড়ে ১২৩ টাকায় পৌঁছেছে। গড় দামও ১৩ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৯৮ পয়সায়। এর আগে গড় বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা।
তবে সর্বনিম্ন বিনিময় হার আগের মতোই ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও অধিকাংশ লেনদেন সর্বোচ্চ দরে হওয়ায় গড় বিনিময় হার বেড়েছে।
আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম বৃদ্ধির ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও আমদানিকারকদের কাছে ডলার বিক্রির মূল্য বাড়িয়েছে। আগে অধিকাংশ ব্যাংক আমদানি খাতে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৬০ থেকে ৬৫ পয়সা দরে বিক্রি করলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১২৩ টাকা ৭৫ থেকে ৮০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে। এর আগে সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ছিলো ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের বিনিময় হার প্রায় স্থিতিশীল ছিলো। সে সময় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন হার ১২২ টাকা ৮৫ পয়সাতেই সীমাবদ্ধ ছিলো। তবে নতুন করে দাম বাড়ায় বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত মাসের শেষ দিকে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দাম ১২৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সায় উঠেছিলো। এবার সে ধারাবাহিকতায় আরও এক দফা সমন্বয় করা হলো।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং আমদানিনির্ভর পণ্যের দামের ওপর। ফলে ব্যবসায়ীদের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে।
এদিকে বাংলাদেশে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে আইএমএফের প্রতিনিধিদল। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে ডলারের বিনিময় হার আরও বেশি বাজারভিত্তিক করার পরামর্শ দিয়ে আসছে। তাদের মতে, দেশের অর্থনীতির বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় ডলারের সরকারি মূল্য এখনও কম এবং এটি বাজারের ওপর পুরোপুরি ছেড়ে দেয়া উচিত। আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্তও এটি।
এ বিষয়ে আলোচনা চালাতে বর্তমানে ঢাকা সফর করছে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল। রোববার (১২ জুলাই) তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে কয়েক দফা বৈঠক করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছে, এসব বৈঠক মূলত পরিচিতিমূলক ছিলো। তবে আইএমএফ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজার-সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য চেয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনার পর পরবর্তী বৈঠকে ঋণ কর্মসূচি ও নীতিগত বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সবার দেশ/কেএম




























