Sobar Desh | সবার দেশ ড. মাহরুফ চৌধুরী


প্রকাশিত: ২১:৩৮, ১২ জুলাই ২০২৬

শরিফ ওসমান হাদী

ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা ও নতুন প্রজন্মের রাজনীতির পথরেখা

নীরবতা সবসময় নিরপেক্ষতা নয়। অনেক ক্ষেত্রে নীরবতা অন্যায়ের প্রতি নীরব সম্মতি, আর অন্যায়ের সামনে নিরপেক্ষতার দাবি প্রকৃতপক্ষে শক্তিশালীর পক্ষেই অবস্থান তৈরি করে। নির্দ্বিধায় বলা চলে, এ উপলব্ধি তার রাজনৈতিক ও নৈতিক দর্শনের অন্যতম কেন্দ্রীয় ভিত্তি ছিলো।

ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা ও নতুন প্রজন্মের রাজনীতির পথরেখা
ছবি: সবার দেশ

শহীদ শরীফ ওসমান হাদির (১৯৯৩–২০২৫) চিন্তাজগতকে একরৈখিক বা সংকীর্ণ রাজনৈতিক ব্যাখ্যার গণ্ডিতে আবদ্ধ করার সুযোগ নেই। বরং তার চেতনা ও চিন্তার জগত ছিলো বহুমাত্রিক, সমন্বয়বাদী এবং গভীরভাবে বাস্তবতানিষ্ঠ। তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রকে বিচ্ছিন্ন কিছু প্রতিষ্ঠানের সমষ্টি হিসেবে দেখেননি; বরং ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ভাষা, শিক্ষা, শিল্পকলা ও নৈতিকতাকে একটি বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত উপাদান হিসেবে উপলব্ধি ও বিবেচনা করেছিলেন। 

তার মতে, বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় পরিসরে একটি ক্ষেত্রের সংকট কখনো এককভাবে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা ধীরে ধীরে অন্য ক্ষেত্রগুলোতেও প্রভাব বিস্তার করে। শিক্ষা ব্যবস্থার অবক্ষয় যেমন রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দুর্বল করে, তেমনি রাজনৈতিক অনৈতিকতা সামাজিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার এবং সাংস্কৃতিক বিকাশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে রাষ্ট্রসংস্কারকে তিনি কখনও কেবল সরকার পরিবর্তন বা প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের প্রশ্ন হিসেবে দেখেননি; বরং এটি ছিলো তার কাছে সামগ্রিক সামাজিক রূপান্তরের একটি বহুমুখী প্রকল্প। তার এ দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে রাষ্ট্র কেবল আইন, সংবিধান ও প্রশাসনের যান্ত্রিক কাঠামো নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ক্ষমতার বণ্টন, সাংস্কৃতিক চর্চা, সামাজিক সম্পর্ক এবং নৈতিক বোধের সমষ্টিগত প্রকাশ। রাষ্ট্রের প্রকৃতি বোঝার জন্য তাই কেবল ক্ষমতার কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করলেই যথেষ্ট নয়; বরং মানুষের জীবনযাপন, ভাষা, চিন্তা ও সামাজিক আচার-আচরণের ভেতরেও রাষ্ট্রের প্রতিফলন খুঁজতে হয়। শরীফ ওসমান হাদীর সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণে এ বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গির উপস্থিতি স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায়।

এদিক থেকে শরীফ ওসমান হাদির চিন্তার ধারা ইতালীয় দার্শনিক ও রাজনৈতিক তাত্ত্বিক আন্তোনিও গ্রামসির (১৮৯১-১৯৩৭) সমালোচনামূলক চেতনার সঙ্গে এক ধরনের বৌদ্ধিক সাযুজ্য বহন করে। গ্রামসি দেখিয়েছিলেন যে, ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রযন্ত্র, আইন কিংবা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিচালিত হয় না; বরং সংস্কৃতি, শিক্ষা, ভাষা ও সামাজিক সম্মতির মধ্য দিয়েও আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। হাদীও অনুধাবন করেছিলেন যে বৈষম্য, স্বৈরতন্ত্র কিংবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয় না। এর জন্য প্রয়োজন চিন্তার জগতে, সংস্কৃতিতে এবং সামাজিক মূল্যবোধে পরিবর্তন আনা। তার কাছে রাষ্ট্র মানে কেবল প্রশাসন নয়; বরং ক্ষমতা, সংস্কৃতি ও নাগরিক জীবনের জটিল আন্তঃসম্পর্কের একটি গতিশীল ক্ষেত্র। 

জীবনের জটিলতাকে বুঝতে এ সমন্বিত পাঠই তার রাষ্ট্রচিন্তাকে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত করেছে। ফলে তিনি তত্ত্বকে মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন কোনও বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলন হিসেবে দেখেননি। বরং মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা, বঞ্চনা, আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামের আলোকে রাষ্ট্রকে বুঝতে এবং পরিবর্তনের পথ খুঁজতে চেয়েছেন। এ কারণেই তার রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রে ছিলো না ক্ষমতার কোন রাজনৈতিক অলিন্দ; ছিলো সাধারণ মানুষ যাঁদের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাকেই তিনি রাষ্ট্রের অস্তিত্বের প্রধান উদ্দেশ্য এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উপায় বলে মনে করতেন।

রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আন্দোলনের কর্মী হিসেবে শরীফ ওসমান হাদির বক্তৃতা ছিলো আবেগনির্ভর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার বাইরে এক সুস্পষ্ট বোধ, বিশ্লেষণ ও নৈতিক অবস্থানের প্রকাশ। তিনি জনসমাগমে কেবল ক্ষোভ প্রকাশ করেননি; বরং চেষ্টা করেছেন সংকটের উৎস, তার কাঠামোগত কারণ এবং সম্ভাব্য সমাধানের দিকগুলো সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে। ফলে তার বক্তব্যে প্রতিবাদ যেমন ছিলো, তেমনি ছিলো রাজনৈতিক শিক্ষার উপাদান; সমালোচনা যেমন ছিল, তেমনি ছিলো রাষ্ট্র ও সমাজকে নতুনভাবে কল্পনা করার আহ্বান; সমস্যার মূল কারণের প্রতি যেমন ইঙ্গিত ছিলো, তেমনি ছিল সমাধানের নানা দিক নির্দেশণা। এ বৈশিষ্ট্য তাকে কেবল একজন সাধারণ আন্দোলন তৈরির কর্মী নয়, বরং এক ধরনের প্রজ্ঞাপ্রসূত বাস্তবতাবাদী জনবুদ্ধিজীবী চরিত্রে উন্নীত করেছিলো, যিনি জনমানুষের ভাষায় জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যতের রূপরেখাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। 

রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, প্রশাসনিক অদক্ষতা, দুর্নীতি ও জবাবদিহিহীনতার বিরুদ্ধে তার সমালোচনা ছিলো তীক্ষ্ণ ও তীব্র, কিন্তু কখনও উদ্দেশ্যহীন বা ধ্বংসাত্মক নয়; বরং গঠনমূলক। তিনি মনে করতেন, কোনও রাষ্ট্রের সমস্যা কেবল ব্যক্তি বা গোষ্ঠির পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাধান করা যায় না, যদি সে সমস্যার জন্মদাতা বা উৎসগত কাঠামো অক্ষত থাকে। তাই ক্ষমতার অপব্যবহার, পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি, দলীয় আনুগত্যভিত্তিক প্রশাসন এবং গোষ্ঠীগত স্বার্থকেন্দ্রিক রাষ্ট্রচর্চাকে তিনি বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা হিসেবে দেখেননি; বরং এগুলোকে রাষ্ট্র ও সমাজের গভীরে প্রোথিত কাঠামোগত ব্যাধি হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন। তার মতে, এসব ব্যাধি শুধু রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকেই দুর্বল করে না; ধীরে ধীরে মানুষের ন্যায়বোধ, আস্থা এবং সামাজিক সংহতিকেও ক্ষয় করে দেয়।

শরীফ ওসমান হাদি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে কাঠামোগত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন না তুললে ব্যক্তিগত নৈতিকতা শেষ পর্যন্ত আত্মকেন্দ্রিকতা অথবা বৈরাগ্যবাদ কিংবা ব্যক্তিগত পুণ্যচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। একজন ব্যক্তি যতই সৎ হোন না কেনো, যদি তিনি অন্যায়ের উৎসমূল বিশেষ কোন সামাজিক, প্রশাসনিক কিংবা রাজনৈতিক কাঠামোকে প্রশ্ন না করেন, তবে তার সততা বৃহত্তর সামষ্টিক কল্যাণে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয় না। সমাজতাত্ত্বিক ভাষায় বলতে গেলে, তিনি ব্যক্তি ও কাঠামোর দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক গভীরভাবে অনুধাবন করেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন যে মানুষ যেমন সমাজকে প্রভাবিত করে, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোও মানুষের চিন্তা, আচরণ ও সম্ভাবনাকে নির্ধারণ করে। ফলে ব্যক্তিক পরিবর্তন, সামষ্টিক রূপান্তর এবং কাঠামোগত সংস্কার- এতিনটিকে তিনি পরস্পরের পরিপূরক ও সম্পূরক হিসেবে দেখেছেন। 

এদিক থেকে তার চিন্তার সঙ্গে ব্রাজিলীয় শিক্ষাবিদ পাওলো ফ্রেইরির (১৯২১-১৯৯৭) মুক্তিমুখী শিক্ষাভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। ফ্রেইরি তার বিখ্যাত ‘অত্যাচারিতের শিক্ষা’ (পেডাগোজি অব দ্যা অপ্রেসড) গ্রন্থে দেখিয়েছিলেন যে, নিপীড়নের বিরুদ্ধে মুক্তি অর্জনের প্রথম শর্ত হলো সমালোচনামূলক সচেতনতা (ক্রিটিক্যাল কনসিয়াসনেস) অর্থাৎ মানুষকে এমনভাবে শিক্ষিত হতে হবে যাতে সে নিজের অবস্থা, অবস্থান, বিদ্যমান নিপীড়নের কাঠামো এবং মনোজাগতিক চিন্তাভাবনার পরিবর্তনের মাধ্যমে রূপান্তরের সম্ভাবনাকে বুঝতে পারে। হাদীর কাছেও সচেতনতা মানে কেবল তথ্য জানা বা ঘটনাবলি সম্পর্কে অবহিত থাকা নয়; বরং অন্যায়ের কাঠামোকে শনাক্ত করা, তার কার্যপদ্ধতি বোঝা এবং তার বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার নৈতিক ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা। তার বক্তৃতা ও আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিলো এ সচেতনতার বিস্তার যাতে নাগরিকরা কেবল শাসিত জনগোষ্ঠী হিসেবে নয়, বরং পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে নিজেদের পুনরাবিষ্কার করতে পারে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হয়ে কর্মপন্থা নির্ধারণ করে।

এ উপলব্ধিই শরীফ ওসমান হাদিকে কেবল নীতিবাদী বক্তা কিংবা প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের সীমারেখায় আবদ্ধ রাখেনি; বরং তাকে ন্যায়ভিত্তিক সামাজিক রূপান্তরের একজন চিন্তাশীল প্রজ্ঞাবান কর্মীতে পরিণত করেছিলো। তার মধ্যে চিন্তা ও কর্মের বাস্তববাদী যে সৃজনশীল সমন্বয় দেখা যায়, সেটিই তাকে সমসাময়িক অনেক রাজনৈতিক কর্মীর তুলনায় আলাদা করে চিহ্নিত করে। তার প্রতিবাদ ছিলো না চিন্তাশূন্য উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ, কিংবা তার চিন্তা ছিলো না বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন কোনও নিষ্ক্রিয় দার্শনিক অনুশীলনও। তিনি বিশ্বাস করতেন, যে চিন্তা মানুষের জীবন ও সমাজকে স্পর্শ করে না, তা কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক বিলাসিতায় পরিণত হয়; আর যে আন্দোলনের পেছনে সুস্পষ্ট চিন্তার ভিত্তি নেই, তা দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে না। ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থান ছিলো বোধ ও কর্মের এক অবিচ্ছিন্ন সংলাপ, যেখানে ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিবর্তনের শক্তিতে রূপ নেয়। এ কারণেই তার রাষ্ট্রচিন্তা ও সাংস্কৃতিক ভাবনা কেবল তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা রূপ নিয়েছিলো একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও গণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার বাস্তব অনুসন্ধানে। 

তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে রাষ্ট্রসংস্কার কোনও একদিনের ঘটনা নয়; এটি নাগরিক সচেতনতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং নৈতিক নেতৃত্বের দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয়ের ফল। তাই তার বক্তৃতা ও কর্মকাণ্ডে বারবার প্রধান হয়ে ফিরে এসেছে সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার প্রশ্ন। কারণ তিনি মনে করতেন যে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের ভিত্তি শেষ পর্যন্ত জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্যেই নিহিত। মানুষের অমিত সম্ভাবনায় বিশ্বাসী হাদীর নতুন প্রজন্মের তরুণদের প্রতি আস্থা ছিলো গভীর ও সুদূরপ্রসারী। তিনি বিশ্বাস করতেন, ইতিহাসের প্রতিটি গঠনমূলক পরিবর্তনের প্রকৃত বাহক তরুণরাই। সমাজ যখন স্থবির হয়ে পড়ে, প্রতিষ্ঠিত কাঠামো যখন পরিবর্তনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন নতুন চিন্তা, নতুন সাহস এবং নতুন কল্পনাশক্তি নিয়ে তরুণরাই সামনে এগিয়ে আসে। বাংলাদেশের নানা অর্জনের ইতিহাসই তার উজ্জ্বল প্রমাণ। ঔপনিবেশিক জিন্জির থেকে মুক্তির আন্দোলন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ উত্তর সকল আন্দোলন কিংবা বিশ্বের বিভিন্ন বিপ্লব, গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারভিত্তিক আন্দোলনের দিকে তাকালেও দেখা যায় যে, পরিবর্তনের অগ্রভাগে সবসময়ই ছিলো তরুণ সমাজ। শরীফ ওসমান হাদী এ ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে গভীরভাবে অনুধাবন করেছিলেন বলেই তরুণদের কেবল রাজনৈতিক সমর্থক নয়, বরং রাষ্ট্রবিনির্মাণের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন।

আরও পড়ুন <<>> সলিমুল্লাহ খানকে ঘিরে বিতর্ক: সমালোচনা, প্রতিহিংসা নাকি পারশ্রীকাতরতা?

তার দৃষ্টিতে তরুণদের শক্তি কেবল বয়স, উদ্যম বা সংখ্যাধিক্যে নয়; বরং নিজেদের অধিকার আদায়ে প্রশ্নে সমালোচনামুখরতা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং সত্য অনুসন্ধানের সাহসে। তিনি মনে করতেন, প্রশ্নহীন আনুগত্য কোনও সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে না। বরং তিনি বিশ্বাস করতেন, সচেতন প্রশ্নই সমাজকে আত্মসমালোচনা ও আত্মসংশোধনের পথে নিয়ে যায়। তাই তিনি তরুণদের আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেনো প্রচলিত ধারণাকে অন্ধভাবে গ্রহণ না করে, বরং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়ের সক্ষমতা অর্জন করে বিচার-বিশ্লেষণ, যুক্তি-তর্ক ও দলিল-প্রমাণের আলোকে। তার বিশ্বাস ছিলো, যে তরুণ প্রশ্ন করতে ও ভাবতে শেখে, তথ্য-উপাত্ত ও প্রচারণার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে শেখে এবং ন্যায়-অন্যায়ের নৈতিক ভিত্তি অনুধাবন করতে পারে, সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে কখনও কুণ্ঠিত হবে না। 

শহীদ ওসমান হাদির এ অবস্থান নাগরিক সচেতনতার এক আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রূপকে সামনে আনে। এখানে রাজনীতি কেবল নির্বাচন, দলীয় পরিচয় বা ভোটদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং সেটা প্রতিদিনের জীবনে ন্যায় ও অন্যায়ের প্রশ্নে আপোষহীন অবস্থান নেওয়ার নাম। নাগরিকত্ব এখানে একটি সক্রিয় নৈতিক চর্চা যেখানে মানুষ রাষ্ট্রের কেবল প্রজাস্বরূপ নয়, বরং জবাবদিহি দাবি করতে সক্ষম সচেতন অংশীদার। শরীফ ওসমান হাদী নতুন প্রজন্মের কাছে এ বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন যে, একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে তখনই, যখন নাগরিকেরা নিজেদের ভাগ্যের দর্শক না হয়ে পরিবর্তনের প্রকৌশলী ও নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

ভোগবাদী, প্রতিযোগিতামুখী এবং ক্রমবর্ধমান ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমাজবাস্তবতায় দাঁড়িয়ে শরীফ ওসমান হাদি তরুণদের প্রতি একটি মৌলিক আহ্বান জানিয়েছিলেন ব্যক্তিগত উন্নতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কখনও পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করে না দেখার জন্য। তার মতে, ব্যক্তিমানুষের জন্য শিক্ষা, পেশাগত সাফল্য কিংবা অর্থনৈতিক উন্নতি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মানুষ হিসেবে আমাদের সে অর্জন যদি বৃহত্তর সমাজের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও মানবিক দায়িত্ববোধের সঙ্গে যুক্ত না হয়, তবে তা শেষ পর্যন্ত আত্মকেন্দ্রিক সাফল্যে পরিণত হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন মানুষের প্রকৃত সাফল্য কেবল সে কত দূর এগিয়েছে তার মধ্যে নয়; বরং তার অগ্রযাত্রা কতজন মানুষের পথকে আলোকিত করেছে, তার মধ্যেও নিহিত। এ চিন্তার পেছনে ছিলো মানুষের সামষ্টিক তথা সামাজিক অস্তিত্ব সম্পর্কে তার গভীর উপলব্ধি। 

শরীফ ওসমান হাদি বিশ্বাস করতেন, মানুষ কখনও একা বড় হতে পারে না। পরিবার, সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় সুযোগ এবং অসংখ্য মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান একজন ব্যক্তির বিকাশকে সম্ভব করে তোলে। ফলে ব্যক্তি ও সমাজকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরস্পরনির্ভর বাস্তবতা হিসেবে দেখাই ছিলো তার চিন্তার মৌলিক ভিত্তি। রাজনৈতিক দর্শনের ভাষায় এটি সামাজিক সংহতি ও নাগরিক দায়িত্ববোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, যেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মধ্যেই তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের বীজ।

তার চোখে তরুণরা কেবল একটি দেশের ভবিষ্যতের নাগরিকই নয়; বরং বর্তমানের দায়িত্বশীল প্রকৌশলী ও নির্মাতাও বটে। তিনি মনে করতেন, ভবিষ্যৎ কোনও দূরবর্তী সময়ের নাম নয়; ভবিষ্যৎ নির্মিত হয় বর্তমানের চিন্তা, সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। তাই তরুণদের প্রতি তার আহ্বান ছিলো তারা যেনো নিজেদের কেবল কর্মসংস্থান বা ব্যক্তিগত উন্নতির অনুসারী হিসেবে না দেখে, বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের নৈতিক পুনর্গঠনের অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলে। কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় তার তরুণদের নৈতিক বোধ, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মানদণ্ডে। 

আজকের বাস্তবতায়, যখন ব্যক্তিক স্বার্থে আপস, গোষ্ঠীগত স্বার্থে সুবিধাবাদ এবং দলীয় স্বার্থে নীরবতার সংস্কৃতি সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রভাবশালী হয়ে উঠছে, তখন শরীফ ওসমান হাদির মতো কণ্ঠস্বর কেবল একটি রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং জাতীয় বিবেক ও সামাজিক ঐক্যের প্রতীকে রূপ নেয়। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে নীরবতা সবসময় নিরপেক্ষতা নয়। অনেক ক্ষেত্রে নীরবতা অন্যায়ের প্রতি নীরব সম্মতি, আর অন্যায়ের সামনে নিরপেক্ষতার দাবি প্রকৃতপক্ষে শক্তিশালীর পক্ষেই অবস্থান তৈরি করে। নির্দ্বিধায় বলা চলে, এ উপলব্ধি তার রাজনৈতিক ও নৈতিক দর্শনের অন্যতম কেন্দ্রীয় ভিত্তি ছিলো।

শরীফ ওসমান হাদিকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিতে তার ওপর সংঘটিত হামলা আমাদের সামনে একটি কঠিন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সত্য উন্মোচন করেছে। সে সত্য হলো ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা আজও ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রাণসংহারী, কিন্তু একই সঙ্গে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজগুলোর একটি। ইতিহাসের প্রতিটি যুগেই দেখা গেছে, যারা প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতা কাঠামোর অন্যায় ও অবিচারকে চ্যালেঞ্জ করে, সর্বশক্তি নিয়োগ করে তাদের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ইতিহাস এটাও প্রমাণ করে যে, ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারেন, মানুষকে হত্যা করা যেতে পারে, কিন্তু মানুষের ন্যায়ভিত্তিক আদর্শ ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে হত্যা করা যায় না। এ অর্থে শরীফ ওসমান হাদির জীবন ও আত্মত্যাগ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে নৈতিক সাহসের মূল্য যেমন আছে, তেমনি তার সামাজিক, সাংস্কৃতি ও রাজনৈতিক তাৎপর্য জনজীবনে আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী। 

এ বাস্তবতায় ঐক্য মানে কেবল আবেগঘন সমাবেশ, আনুষ্ঠানিক সংহতি বা ক্ষণস্থায়ী প্রতিক্রিয়া নয়। ঐক্য মানে সংগঠিত প্রতিবাদ-প্রতিরোধের সক্ষমতা, সচেতন নাগরিকতার বিকাশ, সিদ্ধান্তগ্রহণে অংশগ্রহণের সুযোগ এবং নৈতিক সাহসের সম্মিলিত চর্চা। ঐক্য মানে এমন একটি সামাজিক শক্তি, যা ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও মতের পার্থক্য অতিক্রম করে ন্যায়, মানবিক মর্যাদা এবং রাষ্ট্রের কল্যাণকর ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করে একত্রিত হতে পারে। শরীফ ওসমান হাদীর রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক উত্তরাধিকার আমাদের সামনে সে ঐক্যেরই এক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা রেখে গেছে।

শরিফ ওসমান হাদি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, দেশ কেবল কোনও নির্দিষ্ট ভূখন্ড কিংবা আবেগঘন স্লোগান নয়; দেশ মানে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক অবিচ্ছেদ্য নৈতিক ও সামাজিক দায়। রাষ্ট্র কোনও স্বয়ংসম্পূর্ণ শক্তিকেন্দ্র নয়, কিংবা নাগরিকের ঊর্ধ্বে অবস্থানকারী কর্তৃত্বও নয়; রাষ্ট্র মূলত নাগরিকেরই সেবক। বিশেষ করে তাদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য গঠিত এবং স্বীকৃত একটি নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। এ নাগরিকতাবোধই ছিলো তার জীবনদর্শনের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক শাসক ও শাসিতের নয়, বরং দায়িত্ব ও অধিকারের পারস্পরিক অঙ্গিকার ও তা বাস্তবায়নের চুক্তি। এ কারণেই ব্যক্তি শরীফ ওসমান হাদী আজ আর কেবল একজন দেশপ্রেমিক শহীদ হিসেবে পরিচিত নন; তিনি দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষার প্রেরণায় রূপান্তরিত একটি নৈতিক প্রতিষ্ঠান। 

তার জীবন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ একদিকে যেমন ব্যক্তিগত ইতিহাসের অংশ, অন্যদিকে মানুষের আজাদী ও দেশের সার্বভৌমত্ত্বের প্রশ্নে তেমনি তা সমষ্টিগত নৈতিক চেতনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। দুর্বৃত্তের গুলিতে তার আহত হওয়া এবং পরবর্তীতে শাহাদাত বরণ আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছিলো, কাঁদিয়েছিলো এ দেশের লক্ষ কোটি মানুষকে। কিন্তু গণমানুষের সামষ্টিক স্মৃতিতে সে শোক নিছক মানবিক আবেগে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা ধীরে ধীরে রূপ নেয় সচেতনতা, প্রশ্ন এবং দায়বদ্ধতার অনুভূতিতে। আর সেটাই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হবে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ ও গণমানুষের মুক্তির বিকল্প নির্মাণের শক্তি হিসেবে। 

দেশের গণমানুষের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের সংগ্রামে তার আদর্শ আগামী দিনগুলোতে আমাদের নিরন্তর দু’টো মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে রাখবে। আর সেগুলো হলো: রাষ্ট্রের সর্বত্র ন্যায়, জবাবদিহিতা ও মানবিকতার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি? আমরা কি সে রাষ্ট্র গঠনের পথে অগ্রসর হচ্ছি, যেখানে নাগরিকের মর্যাদা সর্বোচ্চ, নাকি আমরা আবারও ক্ষমতা, স্বার্থ ও নীরবতার পুরোনো কাঠামোর মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছি? হাদীর জীবন ও চিন্তা তাই কেবল স্মরণের বিষয় নয়; তা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য এক চলমান আত্মসমালোচনার আহ্বান, যা আমাদের প্রতিনিয়ত নিজের অবস্থান ও দায়িত্বকে নতুন করে যাচাই এবং পুণ:নির্ধারণ করতে বাধ্য করে। 

ইতিহাস আমাদের বলে, চিহ্নিত আততায়ীর বুলেটে শরীফ ওসমান হাদির শরীর ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত হয়েছে এবং পরিণতিতে তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন; কিন্তু তার আদর্শ ও চেতনা কোনওভাবেই নিঃশেষিত হয়নি। কারণ ইতিহাসের একটি নির্মম সত্য হলো মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু তার আদর্শ তথা সত্য, ন্যায় ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে গুলি করে ধ্বংস করা যায় না। আদর্শের মৃত্যু নেই; বরং তা অনেক সময় ব্যক্তির জীবনের সীমা অতিক্রম করে বৃহত্তর সমাজচেতনায় আরও গভীরভাবে প্রোথিত হয়। 

শরীফ ওসমান হাদির সংগ্রাম আমাদের শেখায় যে, জাতীয় জীবনের সংকটময় মুহূর্তে আশার আলো আসে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বা ক্ষমতার পুনর্বণ্টন থেকে নয়। বরং তা মানুষের নৈতিক সাহস, স্পষ্ট অবস্থান এবং ঐক্যবদ্ধ সামাজিক চেতনা থেকেই আসে। যখন ব্যক্তি নিজের সুবিধা বা স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সামষ্টিক কল্যাণে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ায়, এবং যখন মানবিকতার প্রশ্নে সমাজ ভয় ও নীরবতার সংস্কৃতি ভেঙে একত্রিত হতে শেখে, তখনই পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেয়। স্বৈরাচারহীন কল্যাণমুখী রাষ্ট্রগঠনে এ শিক্ষাই তার সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার যা কোনও দল, ব্যক্তি বা সময়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়।

আজ চলমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির স্মরণ কেবল আনুষ্ঠানিক শ্লোগান, বক্তৃতা-বিবৃতি, আলাপ-আলোচনা বা আবেগঘন শ্রদ্ধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং তা হতে হবে তার আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে কর্মে রূপান্তরের এক ধারাবাহিক প্রচেষ্টা। ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম তিনি সামনে নিয়ে এসেছিলেন, তা এগিয়ে নেয়ার দায় এখন সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের ওপর বর্তায়। তাকে কেবল মানবিক সহানুভূতির প্রতীক হিসেবে নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের এক নৈতিক প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। এ ঐক্য কোনও কৃত্রিম স্লোগাননির্ভর সমাবেশ নয়; এটি হবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে গড়ে ওঠা দায় ও দরদের ভিত্তিতে দেশ ও দশের কল্যাণে নির্মিত এক নৈতিক সংহতি। 

মানুষের সামষ্টিক কল্যাণে ভিন্নমতকে দমন নয়, বরং সম্মানের সঙ্গে সহাবস্থানের এবং বিকাশের সুযোগ দেয়াই হতে হবে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি। শরীফ ওসমান হাদীর দেখানো পথে ন্যায়, মানবিকতা ও নাগরিক অধিকারের ওপর প্রতিষ্ঠিত এ সংহতি নির্ভর জাতীয় ঐক্যই পারে একটি স্বৈরাচারমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং গণমুখী বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তব রাজনৈতিক সংগ্রামে রূপান্তরিত করতে। আর সেটা করা গেলেই গণমানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় ন্যায় ও ইনসাফের রাষ্ট্রের স্বপ্নে শরীফ ওসমান হাদীর এ আত্মত্যাগ অর্থবহ হয়ে ওঠবে। 

লেখক:
ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য।

শীর্ষ সংবাদ:

কটিয়াদীতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার
বেনাপোল সীমান্তে বিদেশী পিস্তল ও গুলি উদ্ধার
আলমারিতে বিষাক্ত সাপ: কামড়ে প্রাণ গেলো গৃহবধূর
চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া নির্ধারিত সূচিতেই এইচএসসি পরীক্ষা
কুয়েত-বাহরাইন-জর্ডানেে ইরানের একযোগে হামলা
সুইজারল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা
বন্যার ভয়াবহতা বাড়ছে, এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই
নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে
হাসিনার সাজা দেশবাসীর সামনে কার্যকর হবে: শামা ওবায়েদ
বাবার ‘রক্তের প্রতিশোধ’ নেয়ার অঙ্গীকার মোজতবা খামেনির
আমি একা নই, আরও অনেক নারী ভুক্তভোগী: মাহি
ভাঙ্গায় বাসচাপায় নিহত ৫, ক্ষোভে ৪ গাড়িতে আগুন
কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরামের নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ
বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে এনসিপি
‘শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন’
বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন
শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে: নাহিদ ইসলাম
সিলেট বিভাগে বন্যার শঙ্কা, প্লাবিত ৬০ গ্রাম