Sobar Desh | সবার দেশ প্রফেসর মো. আমির হোসেন


প্রকাশিত: ০০:৪৪, ১ জানুয়ারি ২০২৫

আপডেট: ০০:৪৬, ১ জানুয়ারি ২০২৫

সমাজের হেরফের 

সমাজের হেরফের 
ছবি: সবার দেশ

সমাজটা দ্রুত পাল্টে গেলো। বুড়িদের মুখে শ্লোক নেই, গল্প নেই। আঁধার নেই বলে কল্পনা নেই। আগের সেই মৌলিক সৃষ্টি নেই। কত পুঁথির পালা হতো। নাটক রচিত হতো। নিরক্ষর মানুষ মুখে মুখে খনার বচন বলতো। বিদ্যুৎহীন সমাজে আলোকিত হৃদয় ছিল। প্রেমের ছড়াছড়ি ছিল না। যে দুয়েকটা প্রেম হতো তা ছিল আলোড়ন সৃষ্টিকারী। বর্তমান শিশুরা এই বয়সে যা প্রাজ্ঞ সেই ক্ষেত্রে আমরা ছিলাম অজ্ঞ। বুড়িদের মুখে শোনা রূপকথাকে সত্য ভাবতাম। বর্তমানের শিশুরা লজিক দিয়ে প্রশ্ন করে। আমরা কিন্তু পারতাম না! তবে তারা আমাদের চেয়ে ব্রিলিয়ান্ট নয়!

ইদানিং জন্মদিন পালন করা হয়! আমাদের সময়ে হতো না বলেই দেখেছি। যন্ত্র ছিল না, ডাংগুলি ছিল। সিনেমা ছিল না, গ্রামে গ্রামে পালা ছিল। দোতারার গান হতো।  আমরা সাঁতার কাটতাম, মাছ ধরতাম। বর্তমানের পোলাপান মাছ চিনে না। তারা মার্কেট চিনে, আড়ং চিনে না। সাপ্তাহিক হাট চিনে না। কেমন যেন সব মেকি! ইদানিং বড় হৃদয়ের উদারমনা মানুষ নেই! একজন আরেকজনকে তুচ্ছ করতে ওস্তাদ। অল্প কিছুট্টা ধরনের। মোবাইলে ডুবে থাকে। তাদের জীবনে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত নেই। তাদের জীবন মুঠোফোনে বন্দী  তাদের কাছে রাত হলো নির্ঘুমের, দিন হলো ঘুমের। আমরা চোখ কচলাতে কচলাতে মক্তবে যেতাম। ওরা মক্তব চিনেই না! গোল্ডেন রেজাল্ট নিয়ে তারা অহংকারী কিন্তু সফল হতে পারছে না। টিভিতে খেলা দেখে কিন্তু নিজেরা খেলে না। তাদের সাথে নাকি জেনারেশন গ্যাপ! অথচ সময় চলে ধারাবাহিকে। ওরা ব্যন্ড সংজ্ঞীতে নাচে। আমরা রাখাল দেখেছি, লাঙ্গল জোয়াল মই, টোটা দেখেছি। ওরা এসব কিছুই চিনে না। উল্টো বলবে আপনারাও ইন্সটাগ্রাম, এপসগুলো চিনেন না! আসলে আমরা কৃত্রিমে ডুবতে চাই না। আমরা প্রকৃতি দেখেছি, আকাশ দেখেছি, উদারতা দেখেছি। আমরা পড়তাম আর আনন্দ করতাম। এখন পড়ায় আনন্দ নেই। এখন গিলে। বিদ্যা কোটেট করা ক্যাপসুল যেন! এখন সন্তানের ঘরে তাদের সন্তানের জায়গা হয় কিন্তু বাবা-মায়ের জায়গা হয় না। নিজের ছেলে ও মেয়েকে বাবা-মা বলতে বলতে মুখে ফেনা তোলে। কিন্তু আসল বাবা-মাকে কাছে রাখে না।

আমরা শৈশবে পান্তা পেঁয়াজ মরিচ খেতাম। বর্তমান প্রজন্ম খায় ফাস্টফুড। অবশেষে মোটা হয় ঠিক ফার্মের মুরগির মতো। হাঁপাতে থাকে একটুতেই। আমরা খেলতাম রোদে বৃষ্টিতে। বর্তমান শিশুরা খেলে মোবাইলে। আমাদের মাথায় একটাই শব্দ ছিল আমাদের। বর্তমান শিশুরা বলে আমার। আমার বলতে আমাদের শৈশবে কিছু ছিল না। ডাংগুলি, নৈচা, মুঠখেলা আমাদের সম্মিলিত ছিল। একটা মাঠ সকাল দুপুর বিকেলে ভাগ করা ছিল। সিনিয়ররা বিকেলে খেলতেন। আমরা বল কুড়িয়ে আনতাম। আমরা ছিলাম প্রকৃতির সন্তান। আমাদের সূর্যোদয় সূর্যাস্ত ছিল। বর্তমান প্রজন্মের তা নেই। তাদের রাত কাটে নির্ঘুমে, দিন শেষ ঘুমে। এখন মানুষ যন্ত্রে ডুবে। কল্পনা কম তাই সৃষ্টি কম! এখন মানুষ কথায় কথায় শ্লোক বলে না। খনার বচনও নয়! আগে পুঁথি হতো, নাটক হতো, পালা গান হতো। এখন হয় নষ্ট রাজনীতি। মানুষের ধৈর্য কম। নিজেকে বড় মনে করে। তার সমান যেন কেউ নেই!

লেখক: কবি, কথাসাহিত্যিক ও গীতিকার

আরও পড়ুন: নষ্ট শিক্ষা

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

খামেনি হত্যার প্রতিশোধের লাল পতাকা উড়ালো ইরান
ইসরায়েলি হামলায় কেঁপে উঠলো ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন
চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ভরসা প্রাণিসম্পদ খাত, সেবার সংকটে শঙ্কা
রাষ্ট্রপতির অভিশংসনেই সংসদের যাত্রা শুরু হোক: আসিফ
ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা জামায়াত আমিরের
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের
যুক্তরাষ্ট্রে রাতভর গোলাগুলি, নিহত ৩, আহত ১৪
ভারত থেকে দেশে ফিরলো আওয়ামী এমপির লাশ
যশোরে জেলা জজ পদশূন্য, ভারপ্রাপ্ত জজের ওপর অনাস্থা
খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
কোকো ভাইয়ের অবদান তুলে ধরতে পারিনি—অনুশোচনায় তামিম
হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্ব তেলবাজার টালমাটাল-দাম লাফিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল প্রশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ
বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবীর কারাদণ্ড
খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি
আধিপত্যবাদের নগ্নরূপ: আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত: রিপোর্ট
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র চুরমার করলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা, নিহত ৮