‘দুর্নীতি-চাঁদাবাজিতে দেশ জর্জরিত’—বিকল্প শক্তি গঠনের ডাক এনসিপির
দেশজুড়ে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের রায় উপেক্ষিত হচ্ছে এবং এ অবস্থায় একটি শক্তিশালী বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি দলের জায়গায় আরেকটি দল এসেছে, কিন্তু কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটেনি। তার ভাষায়, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। বিচার বিভাগ থেকে প্রশাসন—সব জায়গায় যে সংস্কারের সুযোগ তৈরি হয়েছিলো, তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ব্যক্তি বা দলের পরিবর্তন নয়, পুরো ক্ষমতা কাঠামোর পরিবর্তন চাই। এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে চাই, যেখানে জনগণের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হবে এবং দেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক পটভূমির ব্যক্তিরা এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন। এর মধ্যে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর ব্যারিস্টার সানিসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রয়েছেন।
নতুনদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা তারুণ্যের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। দেশকে পুরনো ব্যবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া যাবে না, তাই বৃহত্তর একটি জোট গঠনই আমাদের লক্ষ্য।
দলে যোগদানের ক্ষেত্রে আগের রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব না দেয়ার কথাও স্পষ্ট করেন তিনি। বলেন, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ কিংবা ছাত্রলীগ—যে পরিচয়ই থাকুক, এনসিপিতে যোগ দিলে সবাই এক পরিচয়ে সংগঠক হিসেবে কাজ করবে।
তবে তিনি সতর্ক করে দেন,
ফ্যাসিবাদ, গণহত্যা, দুর্নীতি বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির এনসিপিতে স্থান হবে না।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সকল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সবার দেশ/কেএম




























