Sobar Desh | সবার দেশ

প্রকাশিত: ০১:০২, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফখরুলের সাক্ষাৎকার ঘিরে ঝড়: জামায়াত-এনসিপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া

জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) এখন আর কোনো শক্তি মনে করে না বিএনপি। জামায়াতে ইসলামীকে আর মাথায় উঠতে দেবে না। দলটির যত না শক্তি, বিএনপি অকারণে তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ফখরুলের সাক্ষাৎকার ঘিরে ঝড়: জামায়াত-এনসিপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কলকাতার পত্রিকা ‘এই সময়’-এ প্রকাশিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাক্ষাৎকারে বলা হয়, বিএনপি আর জামায়াতকে ‘মাথায় তুলবে না’ এবং এনসিপিকে কোনও শক্তি হিসেবে দেখে না। এ বক্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

সোমবার পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।

‘বিএনপি-জামায়াতকে ভারত কেন এক বন্ধনীতে রাখছে, প্রশ্ন মির্জার’ শিরোনামে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সাক্ষাৎকারের কিছু বক্তব্য নিয়ে জামায়াতে ইসলামী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপি নেতারাও।

সাক্ষাৎকারে কী বলা হয়েছিলো

সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন। জামায়াত ভোটে অংশ নেবে, তবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) নয়—প্রচলিত পদ্ধতিতেই নির্বাচন হবে। আর এনসিপি এখন কোনও শক্তি নয়, তাদের রাজপথে ভিড় তোলার সামর্থ্যও নেই।

জামায়াত ৩০ আসন চেয়েছে

সাক্ষাৎকারের এক প্রশ্নে মির্জা ফখরুলের জবাব হিসেবে লেখা হয়েছে, আগামী নির্বাচনে জামায়াত বিএনপির কাছে ৩০টা আসন চেয়েছে। বিএনপি উৎসাহ দেখায়নি।

এ প্রশ্নের জবাবে আরও লেখা হয়েছে, 

আপনাকে আশ্বাস দিচ্ছি, জামায়াতকে আর আমরা মাথায় উঠতে দেবো না। তারা যত বড় না শক্তি, আমরা অকারণে তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। পিআর-টিআর সবই বিএনপির ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল। জামায়াত কিন্তু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছে। আসলে দেশে প্রবলভাবেই মানুষ নির্বাচন চাইছেন। সেনাবাহিনী চাইছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও চাইছেন।

২৫ বছর ধরে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত একসঙ্গে ছিলো, সে জন্য দল দুটির নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হয় কি না। এমন প্রশ্নের জবাবে বলা হয়, ভুল। আওয়ামী লীগ এ অপপ্রচার ভারতকে বিশ্বাস করিয়েছে। তারা শুধুই নির্বাচনী শরিক। তারা ধর্মীয় রাজনীতি করে, আমরা করি না। আসলে আওয়ামী চশমা দিয়ে ভারত বাংলাদেশকে দেখেই ভুলটা করেছে। বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগই রাখেনি। আজ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্ষোভের পাহাড় তীব্র ভারত-বিরোধিতায় পর্যবসিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ, জাসদ বা ওয়ার্কার্স পার্টির মতো দলগুলো আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না? এ প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুলের যে বক্তব্য ছাপা হয়েছে, সেটা হলো, 

আমরা বলেছি আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকেরা সবাই, এমনকি জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে অংশ নিক। একটা সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হোক। এ জন্য অনেকে আমাকে ভারতের এজেন্ট, আওয়ামী দালাল বলে গালাগাল দিচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনার অপকর্ম আমরাও কেন করবো? হাসিনা ১৫ বছর প্রতিপক্ষকে ভোটে দাঁড়াতেই দেননি, তার শাস্তি পেয়েছেন। একই কাজ করলে আমরাও তো প্রতিফল পাব। তবে মানুষ এত রক্ত দেখেছেন, এত প্রাণহানি—তাদের মধ্যে আওয়ামী-বিরোধিতা রয়েছে।

এনসিপির এখন একমাত্র লক্ষ্য বিএনপিকে সরকার গঠন করতে না দেয়া—এমন বক্তব্যও এসেছে এ সাক্ষাৎকারে।

বিএনপির পাল্টা বক্তব্য

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাক্ষাৎকারটি বিভ্রান্তিকরভাবে প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ধরনের মন্তব্য করেননি। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ বিকৃত করে ছাপা হয়েছে, যা সত্য নয়।

জামায়াতের প্রতিবাদ

প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে দেয়া বক্তব্য ও মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিব জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি এবং সংগঠনের মর্যাদা সম্পর্কে তাচ্ছিল্যের ভাষায় কথা বলেছেন। এ ধরনের সম্পূর্ণ অসত্য, অমর্যাদাকর ও প্রতিহিংসাপরায়ণ বক্তব্য। এ বক্তব্যের সঙ্গে সত্য ও শিষ্টাচারের কোনো মিল নেই।

বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, 

এ বক্তব্য যদি তার (মির্জা ফখরুল) হয়ে থাকে, তবে বাধ্য হয়ে আমরা তার প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি। পাশাপাশি এ বক্তব্য যদি তার হয়ে থাকে তাহলে জামায়াতে ইসলামী কার কাছে এ আসনগুলো দাবি করেছে, তার প্রমাণ জাতির কাছে উপস্থাপন করার জন্য দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে আহ্বান জানাচ্ছি।

বিএনপির কাছে ৩০ আসন চাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে দিয়ে গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে বলেন, কারও কাছে আসন চাওয়ার রাজনীতির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান সময়ে দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য বিএনপির মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

এনসিপির প্রতিক্রিয়া

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার দলের বিষয়ে সাক্ষাৎকারে দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে বলেছেন, এনসিপি কোনো শক্তি কি শক্তি নয়, এটা রাজপথে, ভোটের মাঠে জনগণই রায় দেবে।

নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে আখতার হোসেনকে হেনস্তা করার ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার সুযোগ নেই উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 

আমরা দেখতে পাচ্ছি, একদিকে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছে, অন্যদিকে দেশের কোনো কোনো রাজনীতিবিদ আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার ষড়যন্ত্র করছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার অথবা আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করার কোনও সুযোগ নেই। যারা এটা করার চেষ্টা করবে, জনগণ তাদের বিরুদ্ধেই দাঁড়াবে। তাদের রাজনীতি বাংলাদেশ থেকে নাই হয়ে যাবে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন

‘এই সময়’-এর সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়াসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এ বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। অন্যদিকে বিএনপি দাবি করছে, পুরো বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করা হয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন