বাণিজ্যচুক্তি সম্পর্কে জানতো না এনসিপি—আসিফ মাহমুদের দাবি
‘বাণিজ্যচুক্তি বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়ে বিএনপি করিয়েছে’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি করেছেন, ভোটের মাত্র তিন দিন আগে করা ওই চুক্তির বিষয়ে এনসিপিকে কিছুই জানানো হয়নি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির সমঝোতার ভিত্তিতেই চুক্তিটি করা হয়েছিলো এবং এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীতে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি, দায় বিএনপির।
আসিফ মাহমুদ বলেন,
আমরা মনে করি, এ চুক্তিটি বিএনপিই করেছে। তাদের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়ে নির্বাচনের তিন দিন আগে তড়িঘড়ি করে চুক্তিটি করানো হয়েছে। পরে এখন তারা বলছে, এটি আগের সরকারের সিদ্ধান্ত, তাই আর কিছু করার নেই।
তিনি দাবি করেন, চুক্তিটি সম্পাদনের আগে এনসিপির কোনও মতামত বা উদ্বেগ বিবেচনায় নেয়া হয়নি। তার ভাষায়, অনেকে বলছেন, সব রাজনৈতিক দলকে জানানো হয়েছিলো। কিন্তু আমি আমাদের আহ্বায়কসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছি। এ চুক্তির আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির কোনও কনসার্ন নেয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা—যিনি বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন—তিনি কার্যত বিএনপির পক্ষে কাজ করেছেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, এ চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য তিন মাস সময় ছিলো। কিন্তু সরকার এক মাসের মধ্যেই এটি করে ফেললো। আরও দুই মাস সময় হাতে ছিলো। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করেই কি তিনি নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এ চুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন?
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরে কথিত ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ নিয়েও মন্তব্য করেন এনসিপির মুখপাত্র। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিচেন ক্যাবিনেট ছিলো—এটা আমিও বলেছি। তবে আমি ওই ক্যাবিনেটের সদস্য ছিলাম না।
তিনি জানান, সরকারের ভেতরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিয়মিত বৈঠক করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো বলে আলোচনা ছিলো।
এর আগে সোমবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো মূলত একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ থেকেই আসতো। তার দাবি, সাত সদস্যের ওই গোষ্ঠী প্রতি মঙ্গলবার বৈঠকে বসতো এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতো।
তৌহিদ হোসেন বলেন, একবার কোনও একটি উপলক্ষে আমাকে যমুনায় ওই বৈঠকে যেতে হয়েছিলো। পরে জানতে পারি, প্রতি মঙ্গলবার তারা বসেন। কে বা কারা সিদ্ধান্ত নেয়—এমন কথাবার্তা তখন শোনা যেতো। তবে এর বাইরে যে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপ নিয়মিত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বৈঠক করে, সে বিষয়ে আমার স্পষ্ট ধারণা ছিলো না।
একই সাক্ষাৎকারে তিনি ভোটের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তির সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগও অস্বীকার করেন।
সবার দেশ/কেএম




























