মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা
যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন ট্রাম্প, অনড় অবস্থানে ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চললেও দুই পক্ষের অবস্থান এখনো কঠোর। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পরও পারস্পরিক অবিশ্বাস ও কৌশলগত চাপ অব্যাহত থাকায় যেকোনও সময় নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই প্রকাশ্যে নতুন যুদ্ধ এড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে সামরিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত অবস্থান বজায় রেখেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল অব্যাহত রেখে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। অন্যদিকে ইরানও তাদের বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে এবং অতীত হামলার ক্ষয়ক্ষতি পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর উদ্যোগে চলমান আলোচনা এখনও ভেঙে পড়েনি, তবে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
জেরেমি বোয়েন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তেহরানকে চাপে রাখতে চাইছে, আর ইরানও স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে তারা প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় রেখেছে এবং প্রয়োজন হলে পাল্টা আঘাত হানতে প্রস্তুত।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কৌশলগত এ জলপথে আংশিক অচলাবস্থা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। বিকল্প রুট ও বন্দর ব্যবহার করা হলেও বৈশ্বিক তেল সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। একদিকে যুদ্ধ এড়ানোর চাপ, অন্যদিকে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা—দুই দিক থেকেই তিনি সীমিত বিকল্পের মধ্যে আছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে জনমতও ধীরে ধীরে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে ইরান নেতৃত্ব মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের অংশ। ফলে তারা কোনও ধরনের চাপের মুখে অবস্থান পরিবর্তন করবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোও এ সংকটে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ ও জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তান ও কাতার সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিন্ন কৌশলগত অবস্থান থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান উত্তেজনা থেকে দ্রুত কোনও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। বরং সামনের দিনগুলোতে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কাই বেশি।
সবার দেশ/কেএম




























