অভিযান সমাপ্তি ঘোষণা করে ফের হুমকি ট্রাম্পের
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্ত হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে এ ঘোষণার পরপরই নতুন করে তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। যদিও এ বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এমনকি ইসরায়েলও সম্ভাব্য এ সমঝোতা সম্পর্কে অবগত নয় বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত। সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তাদের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম ত্যাগ করবে এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করা প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার ফেরত দিতে পারে।
‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্তির ঘোষণা
মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কো রুবিও বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক অভিযান নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং সেটি সফলভাবে শেষ হয়েছে।
তিনি জানান, ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তার ভাষায়,
আমরা নতুন কোনও সংঘাত চাই না। আমরা শান্তির পথেই থাকতে চাই।
রুবিও আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণে আগ্রহী এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখাকে ওয়াশিংটন গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে, যাতে বৈশ্বিক বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকে।
টানা কয়েক সপ্তাহের সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িক স্থগিত
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চূড়ান্ত সমঝোতার স্বার্থে ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ আপাতত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তার ভাষায়, মার্কিন সামরিক অভিযানে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ এসেছে এবং এখন একটি ‘চূড়ান্ত ও সামগ্রিক চুক্তি’ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তবে তিনি একই সঙ্গে জানান, হরমুজ ঘিরে অবরোধ এখনও বহাল থাকবে এবং খুব শিগগিরই বোঝা যাবে চুক্তি বাস্তবায়ন হয় কি না।
সমঝোতা না হলে ‘আরও তীব্র’ হামলার হুমকি
অভিযান সমাপ্তির ঘোষণার পরপরই ট্রাম্প আবারও ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন,
ইরান যদি আলোচনায় সম্মত শর্ত মেনে নেয়, তাহলে যুদ্ধ ও অবরোধের অবসান হতে পারে। কিন্তু চুক্তিতে রাজি না হলে ‘আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র’ বোমা হামলা চালানো হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরান শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচলের ওপর থাকা মার্কিন অবরোধ তুলে নেয়া হবে।
‘ন্যায্য ও সমন্বিত চুক্তিই গ্রহণ করবে ইরান’
চীন সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান শুধু ‘ন্যায্য ও সমন্বিত’ চুক্তিই গ্রহণ করবে।
বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন,
আমরা আলোচনায় আমাদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, বৈঠকে ওয়াং ই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সামগ্রিক যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ইরানকে সহায়তা অব্যাহত রাখার কথাও জানায় বেইজিং।
এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী জানিয়েছে, আগ্রাসনের হুমকি শেষ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেয়া হতে পারে।
সম্ভাব্য চুক্তি সম্পর্কে জানে না ইসরায়েল
এক ইসরায়েলি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইসরায়েল এমন কোনও তথ্য জানে না, যা থেকে বোঝা যায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের মতো কোনও চূড়ান্ত সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রের দাবি, ইসরায়েল বরং সংঘাত আরও জোরদারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























