বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানবতাবিরোধী অপরাধ
লগি-বৈঠার বর্বরতার ২৮ অক্টোবর: দুই দশকেও হয়নি বিচার
লগি-বৈঠার আঘাতে প্রাণহানি, লাশের ওপর উল্লাসের অভিযোগ, রাজনৈতিক সংঘাত ও মামলা প্রত্যাহার—একটি দিনের ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে নিহতদের পরিবার।
দুই দশক পেরিয়ে গেছে। ক্যালেন্ডারের পাতা বদলেছে, বদলেছে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল, এসেছে নতুন সরকার, নতুন প্রতিশ্রুতি। কিন্তু ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে সংঘটিত সহিংসতার স্মৃতি এখনো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর অধ্যায় হয়ে আছে। লগি-বৈঠা, লাঠি, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকের ব্যবহার, প্রকাশ্য সংঘর্ষ, প্রাণহানি এবং নিহত ব্যক্তিদের লাশ ঘিরে উল্লাসের অভিযোগ—সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনকেই নাড়িয়ে দেয়নি, গভীর ক্ষত তৈরি করেছিলো বহু পরিবারে।
কোনও পরিবারের সন্তান, কোনও মায়ের বুকের ধন, কোনো স্ত্রীর জীবনসঙ্গী কিংবা কোনো বাবার ভবিষ্যতের স্বপ্ন সেদিন থেমে গিয়েছিলো। যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের কাছে ২৮ অক্টোবর কেবল একটি তারিখ নয়; এটি ফিরে ফিরে আসা শোক, অপূর্ণ বিচারপ্রত্যাশা এবং হারানো মানুষটির স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকার দীর্ঘ সংগ্রাম।
রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বাইরে সেদিনের ঘটনাকে দেখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে—মানুষের জীবন, আইনের শাসন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার জবাবদিহি। কারা হামলা চালিয়েছিলো, কারা প্রাণঘাতী আঘাত করেছিলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছিলো কি না, পরিকল্পিত সহিংসতার অভিযোগের পেছনে কারও নির্দেশনা ছিলো কি না এবং দায়ীদের বিচার কেনো নিশ্চিত করা যায়নি—এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর নিষ্পত্তি আজও জরুরি।
যেভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিলো রাজধানী
২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর ছিলো বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদের শেষ দিন। ওই সন্ধ্যায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বেতার ও টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। পরদিন, ২৮ অক্টোবর, রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি, পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।
চারদলীয় জোট সরকারের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিএনপি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর পাশে সমাবেশের প্রস্তুতি চলছিলো। সকাল থেকেই মঞ্চ তৈরির কাজ করছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পল্টন, বিজয়নগর, তোপখানা সড়ক, মুক্তাঙ্গন ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের কর্মীরা লগি-বৈঠা, লাঠি ও বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাদের সমাবেশস্থলে হামলা চালান। তার আগে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা তার দলের প্রত্যেককে লগি-বৈঠা নিয়ে সবাইকে ঢাকায় আসার প্রকাশ্য নির্দেশ দেন।
জামায়াতের অভিযোগ অনুযায়ী, বেলা ১১টার দিকে পল্টন মোড় ও আশপাশের এলাকা থেকে হামলা শুরু হয়। বিজয়নগর, তোপখানা সড়ক ও মুক্তাঙ্গনের দিক থেকেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। লগি-বৈঠা ও লাঠির আঘাতে অনেকে আহত হন। কিছু স্থানে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন রূপ নেয় যে রাজনৈতিক কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ পথচারীরাও ঝুঁকির মুখে পড়েন।
সেদিনের সবচেয়ে আলোচিত ও বেদনাদায়ক অভিযোগগুলোর একটি ছিলো—নিহত কয়েকজনের লাশের ওপর উঠে উল্লাস করা হয়েছিলো। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত দৃশ্যের কথা উল্লেখ করে জামায়াতের নেতারা ঘটনাটিকে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হিসেবে বর্ণনা করেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার উদ্দেশ্যে সহিংসতার পাশাপাশি লাশের প্রতি অবমাননাকর আচরণও করা হয়েছিলো।
মুজাহিদুল, জসিম, হাবিবুর—নামের আড়ালে থেমে যাওয়া জীবন
২৮ অক্টোবরের সহিংসতার বর্ণনায় বারবার উঠে আসে মুজাহিদুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, হাবিবুর রহমানসহ নিহত ব্যক্তিদের নাম। তারা প্রত্যেকে ছিলেন কোনও না কোনও পরিবারের আপনজন। তাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শুধু কয়েকটি প্রাণই ঝরে পড়েনি, থমকে গিয়েছিলো বহু মানুষের স্বাভাবিক জীবন।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে তৎকালীন বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পল্টন মোড়ের কাছে তাকে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর পর তার লাশ ঘিরে উল্লাসের অভিযোগও করে দলটি। ঘটনাটির বিবরণ সে সময় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনাও আলোচিত হয়। দলটির অভিযোগ, তাকে একপর্যায়ে একা পেয়ে আক্রমণ করা হয়েছিলো। লগি-বৈঠা দিয়ে আঘাতের পর তিনি বারবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন—এমন বর্ণনার কথাও তৎকালীন প্রতিবেদনে উঠে আসে। একই ঘটনায় হাবিবুর রহমানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করেও গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে।
সেদিনের সহিংসতায় শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানেও প্রাণহানির খবর প্রকাশিত হয়েছিলো। বিভিন্ন বিবরণে নিহতের সংখ্যা নিয়েও পার্থক্য রয়েছে। কোথাও ঢাকায় সাতজন, কোথাও ছয়জনের কথা বলা হয়েছে; আবার বৃহত্তর সহিংসতায় সারাদেশে আরও মানুষের মৃত্যুর উল্লেখ পাওয়া যায়।
লাশ ঘিরে বিতর্ক, পরিবারের শোক
হাবিবুর রহমানের লাশ ঘিরে সেদিন গুরুতর অভিযোগ ওঠে। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাকে হত্যার পর লাশ সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা হয়েছিলো। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ নেয়া হলে সেটি নিজেদের কর্মীর বলে দাবি করার ঘটনাও ঘটেছিলো বলে দলটির নেতারা অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, লাশ নিতে আসা কয়েকজনের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিলো এবং পরে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়।
রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ব্যক্তির লাশকে রাজনৈতিক প্রচারের উপকরণে পরিণত করা হলে পরিবারের শোক আরও গভীর হয়। যারা সেদিন স্বজন হারিয়েছেন, তাদের কাছে এসব বিতর্কের চেয়েও বড় প্রশ্ন—প্রিয় মানুষটির মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার হয়েছে কি না এবং রাষ্ট্র তাদের ন্যায়বিচার দিতে পেরেছে কি না।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
২৮ অক্টোবরের ঘটনা ঘিরে তৎকালীন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে। জামায়াতের নেতাকর্মীদের অভিযোগ ছিলো, হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাছাকাছি অবস্থানে থাকলেও সহিংসতা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। তাদের দাবি, আহতদের ওপর আক্রমণ চলার সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলো।
এ ধরনের অভিযোগ শুধু একটি রাজনৈতিক দলের বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে শেষ করে দেয়ার সুযোগ নেই। জনসমাগম, রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও প্রাণঘাতী সহিংসতার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব কী ছিলো, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নিয়েছিলো এবং কোথাও দায়িত্ব পালনে অবহেলা হয়েছিলো কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্রীয় নথি ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
সেদিনের ঘটনাপ্রবাহে পুলিশের অবস্থান, ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের পরিচয়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা এবং সহিংসতা শুরুর পর নেয়া পদক্ষেপের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জনসমক্ষে এলে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে তৎকালীন সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা প্রয়োজন।
কোনো সংঘর্ষে এক পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে অন্য পক্ষের প্রত্যেক সদস্যকে দায়ী করা যেমন ন্যায়সংগত নয়, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তদন্ত ছাড়া উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দায়িত্বে অবহেলা, নির্দেশ অমান্য কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে সহিংসতা চলতে দেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
বিডিআরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার দাবি
জামায়াতের নেতাদের বর্ণনা অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর বিকেলে তাদের সমাবেশ শুরু হওয়ার পরও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত ছিলো। সমাবেশে জামায়াতের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী বক্তব্য দেয়ার সময় পল্টন মোড়ের দিকে নতুন করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদ থেকে বোমা নিক্ষেপ এবং আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণের অভিযোগও রয়েছে তাদের বর্ণনায়।

পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জামায়াতের নেতারা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তার উদ্যোগে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন—এমন দাবি দলটির পক্ষ থেকে করা হয়েছে। বিডিআরের সদস্যরা অবস্থান নেয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় বলেও ওই বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।
সহিংসতার আগে লগি-বৈঠা নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য
২৮ অক্টোবরের সহিংসতা বিচ্ছিন্নভাবে ঘটেছিলো, নাকি এর আগে দেয়া রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মসূচি পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করেছিল—এ প্রশ্নও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।
জামায়াতের অভিযোগ, ২০০৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পল্টন ময়দানে এক সমাবেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কর্মীদের লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকা অবরোধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। দলটির দাবি, ওই বক্তব্যের পর ২৭ ও ২৮ অক্টোবর বিভিন্ন এলাকায় লগি-বৈঠা নিয়ে কর্মীদের উপস্থিতি এবং হামলার ঘটনা ঘটে। মুক্তাঙ্গনসহ বিভিন্ন স্থানে দেয়া বক্তব্যও সহিংসতাকে উৎসাহিত করেছিলো বলে অভিযোগ করে জামায়াত।
মামলা, চার্জশিট ও অধিকতর তদন্তের জটিল পথ
২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা হয়েছিলো বলে তৎকালীন সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। নিহতদের পরিবার ও জামায়াতের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পাশাপাশি যুবমৈত্রীর পক্ষ থেকেও পাল্টা মামলা করা হয়েছিলো বলে বিভিন্ন বিবরণে উঠে আসে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি মামলায় আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের কয়েকজন নেতাসহ বহু ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিলো। তৎকালীন তদন্তে ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল ৪৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে ২২ এপ্রিল মহানগর হাকিম মীর আলী রেজা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
তবে পরদিন, ২৩ এপ্রিল, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা স্থগিত করা হয় । এরপর তদন্তের অগ্রগতি, অভিযোগপত্রের ভবিষ্যৎ এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক তৈরি হয়।
মামলা প্রত্যাহার: ন্যায়বিচার নিয়ে বিতর্ক
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিকভাবে বিবেচিত বিভিন্ন মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়। ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলাও প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় গিয়েছিলো বলে তৎকালীন সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয় এবং পরে আদালত প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করেন।
এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তখন তীব্র সমালোচনা হয়। জামায়াতের নেতারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহার করে নিহতদের পরিবারকে বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, হত্যা মামলার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত নয়; বরং তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় সত্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।
পরিবারের অপেক্ষা: শোকের সঙ্গে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা
রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে শুধু প্রিয়জন হারানোর শোকই বহন করতে হয় না; অনেক ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রা, আর্থিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও ভেঙে পড়ে। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য মারা গেলে সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে ওঠে। আর যারা শিক্ষার্থী ছিলেন, তাদের অসমাপ্ত স্বপ্ন পরিবারের স্মৃতিতে স্থায়ী হয়ে থাকে।
২৮ অক্টোবরের নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে বিচার না হওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে—কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন এবং রাজনৈতিক পরিচয় অপরাধের দায় থেকে কাউকে মুক্তি দিতে পারে না।
নিহতদের মায়েদের কাছে সন্তানের মৃত্যু কোনও রাজনৈতিক পরিসংখ্যান নয়। স্ত্রীর কাছে স্বামী হারানো শুধু একটি শোকের ঘটনা নয়, বরং জীবনের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বদলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা। বাবার কাছে সন্তান হারানো এমন ক্ষতি, যার কোনও ক্ষতিপূরণ নেই। রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার কাছে তাদের প্রত্যাশা—কে দায়ী, কীভাবে ঘটনা ঘটেছিলো এবং কেনো তাদের প্রিয়জনকে বাঁচানো গেলো না, তার একটি বিশ্বাসযোগ্য উত্তর পাওয়া।

বিচার দীর্ঘায়িত হলে পরিবারের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণের অপ্রাপ্যতা, মামলা পরিচালনার ব্যয়, বারবার আদালতে যাওয়ার কষ্ট এবং রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে মামলার গতিপথ বদলে যাওয়ার আশঙ্কা তাদের আরও অসহায় করে তুলতে পারে। তাই ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা, তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত অবহিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ হওয়া উচিত।
২৮ অক্টোবরের পরের রাজনৈতিক অভিঘাত
২০০৬ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহের সংঘাতের প্রভাব শুধু পল্টন এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিলো না। সে সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা, ক্ষমতা হস্তান্তর, রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং রাজপথের সংঘাতের ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি হয়। রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটি ‘এক-এগারো’ নামে পরিচিত।
২৮ অক্টোবরের সহিংসতাকে এক-এগারোর একমাত্র কারণ বলা যায় না। তবে ওই সময়ের রাজনৈতিক সংঘাত ও পারস্পরিক অবিশ্বাস পরবর্তী অস্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে। রাজনৈতিক সমাধানের পথ সংকুচিত হলে এবং দলগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট বাড়লে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানও চাপের মুখে পড়ে—সে সময়ের ঘটনাপ্রবাহ এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।
এরপর দেশে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার, জরুরি অবস্থার বিধিনিষেধ এবং নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেশের রাজনৈতিক জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। পরবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। কিন্তু ২৮ অক্টোবরের সহিংসতা নিয়ে দায় নির্ধারণ ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিতর্ক অব্যাহত থাকে।
রাজনৈতিক ইতিহাসের এ অধ্যায় মূল্যায়ন করতে হলে এক পক্ষের বক্তব্যকে একমাত্র সত্য ধরে নেয়া যাবে না। বরং সেদিনের সহিংসতার পাশাপাশি পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক ভূমিকা, মামলা পরিচালনা এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতাও পর্যালোচনা করতে হবে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানুষের জীবন
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে দলীয় সংঘর্ষ, প্রতিশোধমূলক হামলা, গুম, হত্যা ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার বিচার অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে আটকে গেছে। ক্ষমতায় থাকা দল নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করেছে, আর বিরোধী দল বিচার না হওয়াকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখিয়েছে।
এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। কোনও অপরাধের শিকার ব্যক্তি কোন দলের সমর্থক ছিলেন, সেটি তার জীবনের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না। একইভাবে, অভিযুক্ত ব্যক্তি কোন দলের নেতা বা কর্মী, সেটিও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের মানদণ্ড হতে পারে না।
২৮ অক্টোবরের ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুর পরিস্থিতি তদন্তের দাবি রাখে। সহিংসতায় আহত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, ভিডিওচিত্র, চিকিৎসা ও ময়নাতদন্তের নথি এবং মামলার কাগজপত্র একত্র করে ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা সম্ভব। যেসব অভিযোগ এখনো যাচাই হয়নি, সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করতে হবে। আর যেসব অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলোর বিচারিক সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও এ ঘটনা একটি সতর্কবার্তা। প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা, কর্মীদের সংঘর্ষে উসকে দেয়া কিংবা সহিংসতার অভিযোগকে দলীয় স্বার্থে আড়াল করার সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে দুর্বল করে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সে মতপার্থক্য নিষ্পত্তির পথ হতে হবে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত।
এখনও যেসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি
দুই দশক পর ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে সামনে রেখে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা প্রয়োজন।
- প্রথমত, সেদিন নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির পরিচয়, মৃত্যুর কারণ, সময় ও স্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা দরকার। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ও পরিচয় নিয়ে যে পার্থক্য রয়েছে, তা দূর করতে সরকারি নথি ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাশাপাশি পর্যালোচনা করা উচিত।
- দ্বিতীয়ত, কোন ঘটনায় কারা সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছিলেন এবং কোথাও নির্দেশদাতা বা পরিকল্পনাকারীর ভূমিকা ছিলো কি না, তা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা জরুরি। রাজনৈতিক বক্তব্য বা দলীয় অভিযোগকে তদন্তের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।
- তৃতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহিংসতা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নিয়েছিলো, কোনও দায়িত্বে অবহেলা হয়েছিলো কি না এবং তৎকালীন প্রশাসনের নির্দেশনা কী ছিলো—এসব প্রশ্নের উত্তর নথিভিত্তিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।
- চতুর্থত, দায়ের করা মামলাগুলোর পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস প্রকাশ করা দরকার। কোন মামলায় কী অভিযোগ ছিলো, কারা আসামি ছিলেন, কী তদন্ত হয়েছে, কোন আদালত কী আদেশ দিয়েছেন এবং মামলা প্রত্যাহার বা স্থগিতের সিদ্ধান্ত কীভাবে কার্যকর হয়েছিলো—এসব তথ্য জনসমক্ষে এলে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে অস্পষ্টতা কমবে।
- পঞ্চমত, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বর্তমান অবস্থা ও তাদের বিচারপ্রত্যাশা নথিবদ্ধ করা প্রয়োজন। তাদের কেউ যদি এখনও আইনি সহায়তা বা মামলার তথ্য পেতে সমস্যায় পড়েন, তবে সে বাধা দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেয়া উচিত।
এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে দায়ী করার পূর্বনির্ধারিত প্রচেষ্টা নয়। বরং সত্য উদ্ঘাটন, ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ হোক
২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে যে ক্ষোভ ও বিতর্ক চলছে, তার অবসান ঘটাতে হলে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, নথির স্বচ্ছতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ। শুধু রাজনৈতিক সভায় বিচার দাবি, পাল্টা অভিযোগ কিংবা স্মরণসভায় আবেগঘন বক্তব্য দিয়ে এ অধ্যায়ের নিষ্পত্তি হবে না।
যদি কোনও মামলা প্রত্যাহারের ফলে গুরুতর অপরাধের অভিযোগের বিচার বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট নথি ও আইনি বিধান পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাকে দোষী ঘোষণা করার আগে প্রমাণ ও যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়; অপরাধের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে দেয়া হলে বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপরাধের দায় নির্ধারণে রাজনৈতিক পরিচয় প্রভাব ফেললে আইনের সমতার নীতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
একই ধরনের সহিংসতা যেন আর না ঘটে, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণবিধি, সভা-সমাবেশে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ তদন্তের কার্যকর ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কোনও দলের কর্মী অপরাধে জড়িত থাকলে দলীয় পরিচয় তাকে সুরক্ষা দিতে পারবে না—এ নীতি বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
স্মৃতি শুধু শোকের নয়, জবাবদিহিরও
২৮ অক্টোবরের স্মৃতি ফিরে এলে নিহতদের স্বজনদের কাছে হারানোর বেদনা নতুন করে জেগে ওঠে। যে সন্তান আর বাড়ি ফেরেনি, যে স্বামী আর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারেননি, যে তরুণের জীবন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার আগেই থেমে গেছে—তাদের অনুপস্থিতি কোনও রাজনৈতিক পালাবদলে মুছে যায় না।
দুই দশক পর এ ঘটনাকে স্মরণ করার অর্থ শুধু অতীতের ক্ষত উন্মোচন নয়; বরং সে ক্ষত থেকে শিক্ষা নিয়ে ন্যায়বিচারের পথ তৈরি করা। ইতিহাসকে দলীয় প্রচারের উপকরণে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রমাণ, নথি, সাক্ষ্য ও ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সংরক্ষণ করতে হবে।
২৮ অক্টোবরের ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুর সত্য উদ্ঘাটন হওয়া প্রয়োজন। যারা অপরাধ করেছেন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনতে হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায়।
রাজনীতির নামে মানুষের জীবন কেড়ে নেয়া, লাশের অবমাননা কিংবা বিচারপ্রক্রিয়াকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার কোনও সুযোগ গণতান্ত্রিক সমাজে থাকতে পারে না। ২৮ অক্টোবরের শিক্ষা তাই স্পষ্ট—ক্ষমতা বদলাতে পারে, সরকার বদলাতে পারে, রাজনৈতিক স্লোগান বদলাতে পারে; কিন্তু মানুষের জীবনের মূল্য এবং ন্যায়বিচারের দাবি বদলায় না।
সেদিনের নিহতদের পরিবারগুলোর কাছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা শুধু অতীতের একটি ঘটনার নিষ্পত্তি নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। সত্য উদ্ঘাটন, দায় নির্ধারণ ও আইনের সমান প্রয়োগের মধ্য দিয়েই রক্তাক্ত সে অধ্যায়ের গ্রহণযোগ্য বিচারিক পরিসমাপ্তি সম্ভব।
লেখক ও সংবাদকর্মী




























