Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭:২৩, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

১৯ বছরেও হয়নি বিচার

নিষিদ্ধ আ.লীগের লগি-বৈঠার তাণ্ডবের রক্তাক্ত দিন আজ 

নিষিদ্ধ আ.লীগের লগি-বৈঠার তাণ্ডবের রক্তাক্ত দিন আজ 
ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৮ অক্টোবর—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় দিন। ২০০৬ সালের এ দিনে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর চালিয়েছিল নৃশংস হামলা, যা পরিণত হয়েছিলো ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞে। ওই ঘটনায় ছয়জন জামায়াত-শিবির কর্মী নির্মমভাবে নিহত হন।

২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার পরপরই দেশে শুরু হয় সংঘাতের আগুন। ক্ষমতার হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। সে রাত থেকেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের কর্মীরা নানা স্থানে বিএনপি ও জামায়াতের অফিস, দোকানপাট, এমনকি ব্যক্তিগত বাড়িঘরেও হামলা চালায়। কোথাও আগুন, কোথাও ভাঙচুর—চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতার বিভীষিকা।

কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায়। প্রকাশ্য দিবালোকে লগি-বৈঠা হাতে আওয়ামী কর্মীরা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আহতদের রাস্তায় ফেলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর পর লাশের ওপর নৃত্য করার দৃশ্য সে সময় দেশ-বিদেশে নিন্দার ঝড় তোলে। অনেক বিদেশি সংবাদমাধ্যম সে দৃশ্যকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বর্বরতার এক ভয়ংকর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে।

ওই ঘটনায় পরবর্তীতে মামলা হলেও বিচার প্রক্রিয়া আজও শুরু হয়নি। ১৯ বছর পার হলেও খুনিদের বিরুদ্ধে কোনও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে এ ঘটনার বিচার দাবি করে আসছে।

দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, 

২৮ অক্টোবরের নারকীয় গণহত্যার সঙ্গে জড়িত খুনিদের বিচারের জন্য সুনির্দিষ্ট মামলা করা হয়েছিলো। কিন্তু তৎকালীন সরকার সে মামলা প্রত্যাহার করে বিচারের পথ রুদ্ধ করে খুনিদের রক্ষা করে। গত বছরের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর দেশ ন্যায়বিচারের পথে এগোচ্ছে। এখনই সময় ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিচার নিশ্চিত করার।

এ উপলক্ষে আজ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সোমবার এক বিবৃতিতে ঘোষণা দেন, ২৮ অক্টোবরের রক্তাক্ত ঘটনার স্মরণে দেশের প্রতিটি জেলায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, লগি-বৈঠার সে ভয়াবহতা কেবল কয়েকজনের মৃত্যু নয়, বরং তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার ইতিহাসে এক অন্ধ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯ বছর পরও এ ঘটনার বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতাকেই আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন