মোসাদ্দেক–নাহিদ ঝড়ে ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়া বধ টাইগারদের
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রচিত হলো আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়। ২১ বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে জয় পেলল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন এবং তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানার গতি–আঘাতে ভর করে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ, ডিএলএস পদ্ধতিতে।
ম্যাচের শুরুটা হয়েছিলো বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাটিং দিয়ে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান তোলে স্বাগতিকরা। ইনিংসের ভিত গড়ে দেন তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনই ফিফটি করেন এবং ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে দলকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যান।
মাঝে দ্রুত একটি উইকেট হারালেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। প্রায় চার বছর পর দলে ফিরে ৭০ বলে ৮৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিলো ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা। শেষ দিকে তার ব্যাটিংই বাংলাদেশকে প্রায় তিনশোর কাছাকাছি শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে নাথান এলিস ৩ উইকেট নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও বাংলাদেশের রান থামানো যায়নি।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল। ইনিংসের শুরুতেই তাসকিন আহমেদের বলে ম্যাথু শর্ট বোল্ড হয়ে ফেরেন। পরের দিকেই মুস্তাফিজুর রহমানের বলে মারনাস লাবুশেন এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরায় সফরকারীদের বিপর্যয় আরও বাড়ে।

চাপ সামলানোর চেষ্টা করেন ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি এবং কনোলি। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান করার পরই বৃষ্টির বাধা নামে মিরপুরে।
বৃষ্টির কারণে খেলা আর শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ৮৬ রানের জয়ী ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন পেসার নাহিদ রানা। ১০ ওভারে মাত্র ৪১ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। তার গতির সামনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা বারবার বিপর্যস্ত হন। একই সঙ্গে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত বল হাতেও ছিলেন কার্যকর। ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি।
ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন ক্যামেরন গ্রিন (৫২*) এবং অ্যালেক্স ক্যারি (৪৭)। বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজুর রহমান নেন ২ উইকেট, আর তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা আক্রমণে শুরু থেকেই চাপ ধরে রাখেন।
এ জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ২১ বছর আগে ২০০৫ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া দলকে হারানোর পর এটিই তাদের দ্বিতীয় ওয়ানডে জয়।
আগামী বৃহস্পতিবার মিরপুরেই সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল : ৫০ ওভারে ২৮৪/৮ (মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৮৬*, নাজমুল হোসেন শান্ত ৬৭, তানজিদ হাসান ৫৪; এলিস ৩/৩৮, রেনশ ২/৩৫, স্কট ২/৫৭)
অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল : ৪২.২ ওভারে ১৯১/৯ (ক্যামেরন গ্রিন ৫২*, অ্যালেক্স ক্যারি ৪৭, কনোলি ৩৫; নাহিদ রানা ৪/৪১, মুস্তাফিজুর রহমান ২/২৪, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ২/৩৭)
ফলাফল : বাংলাদেশ ৮৬ রানে জয়ী (ডিএলএস পদ্ধতিতে)
ম্যাচসেরা : মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত
সিরিজ : বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে
সবার দেশ/কেএম




























