আধুনিক যান্ত্রিকতায় অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে কামার শিল্প
যুগের বিবর্তন ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে কামার শিল্প। মানবেতর জীবন-যাপন করছেন পাঁচবিবির ছাতিনালী গ্রামের কামাররা।
অগ্রহায়ণ ও জৈষ্ঠ্য মাস কৃষকদের ধান কাটার সময় আর ঈদুল আজহায় কামারদের দোকানের লোহা পেটানোর আওয়াজ কানে ভেসে আসতো অনেক দূর থেকে। কৃষকের কাস্তে তৈরিতে দম ফেলার সময় পেতো না কামাররা। সে আওয়াজ এখন নেই বললেই চলে। পাচবিবির ছাতিনালী গ্রামের কামারা এখন অলস সময় পার করেছেন।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী নিমাই কর্মকার বলেন, আমি বাবার সঙ্গে ছোট থেকে এ পেশায় আছি। আমরা গৃহস্থালি বঁটি, খুন্তি, কৃষকের কাস্তে, নিড়ানি, কোদাল, লাঙলের ফলা, শ্রমিকের কুঠার, শাবল, দা, এগুলো তৈরি করি।
বিগত চার থেকে পাঁচ বছর আগেও এগুলোর চাহিদা ভালো ছিলো। কিন্তু এখন সব কাজে আধুনিক মেশিন ব্যবহার হওয়ায় এগুলোর চাহিদা নাই বললেই চলে। এখন আমাদের কাজের মৌসুম তবুও কাজ নাই। বেচা বিক্রিও নাই কোন দিন এক হাজার টাকা বিক্রি হলে আবার দু-তিনদিন কোনও বেচাকেনাই হয় না।
নিমাই দোকানের কর্মচারী শ্রীঃ উজ্জ্বল কর্মকার বলেন, মহাজন আগে যে বেতন দিতো এখন তার অর্ধেক বেতনে এখন কাজ করি। তাছাড়া মহাজনের দোকানে কাজ কমে যাওয়ায় বেতনের বাহিরে কোনো বকশিশ পাই না। অন্য কোনো কাজ জানি না তাই বাধ্য হয়ে এখানেই পরে থাকতে হচ্ছে।
এক সময় ছাতিনালী গ্রামে কামারশিল্পের দোকান সম্প্রসারিত হলেও এখন তা অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বছর পাঁচেক আগে এখানে অনেক দোকান থাকলেও এখন আছে মাত্র ২ থেকে ৩ টি।
সবার দেশ/কেএম

























