বাংলাদেশ ব্যাংকে তীব্র অসন্তোষ
আইন ভেঙে এসআইবিএলের প্রশাসক বদলি
আইন ও বিধি উপেক্ষা করে একীভূতকরণ প্রক্রিয়াধীন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক-এর প্রশাসক পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট (এইচআরডি) সম্প্রতি ব্যাংকটির প্রশাসক সালাহ উদ্দীন ও তার সহযোগী রাশেদুল ইসলামকে বদলি করেছে। নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবুল বসারকে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বিদ্যমান আইন ও প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসক নিয়োগ ও প্রত্যাহারের এখতিয়ার রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংক রেজুলেশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি), এইচআরডির নয়।
সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বরে বিআরডি থেকে সালাহ উদ্দীনকে এসআইবিএলের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পান রাশেদুল ইসলামসহ আরও চার কর্মকর্তা। কিন্তু কোনx সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই মাত্র ছয় মাসের মাথায় একজন ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকের নির্দেশে তাদের বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ব্যাংক রেজুলেশন আইন-২০২৬ অনুযায়ী, সংকটাপন্ন কোনও ব্যাংকের প্রশাসনিক ও কার্যকরী সব কার্যক্রম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পৃথক ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিভাগ’-এর অধীনে পরিচালিত হওয়ার কথা। আইনের ধারা ১৯-এ বলা হয়েছে, আশু সংশোধনমূলক ব্যবস্থা কিংবা রেজুলেশন প্রক্রিয়ার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক একজন প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে, যিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া ধারা ২৩ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু কারণে প্রশাসকের দায়িত্বের অবসান ঘটানো যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে— মেয়াদ শেষ হওয়া, মৃত্যু, দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা, পদত্যাগ, আইন লঙ্ঘন, অযোগ্যতা কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত। তবে আইনের ধারা ৬-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রেজুলেশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ থাকবে এবং এ কার্যক্রমের একক কর্তৃপক্ষ হবে সে বিভাগ।
এ কারণে প্রশাসক নিয়োগ, অপসারণ বা রদবদলের সিদ্ধান্ত বিআরডির মাধ্যমেই হওয়ার কথা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, বিআরডিকে না জানিয়েই প্রশাসক বদলির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একীভূত ব্যাংকগুলোর সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করে বিআরডি। ফলে প্রশাসক পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ওই বিভাগের অনুমোদন ছাড়া হওয়া উচিত নয়। যদিও অভ্যন্তরীণভাবে বলা হচ্ছে, প্রশাসক সালাহ উদ্দীনের ঢাকার বাইরে বদলির সময় হয়ে যাওয়ায় তাকে সরানো হয়েছে।
তবে কর্মকর্তাদের প্রশ্ন, এখনও এমন অনেক নির্বাহী পরিচালক রয়েছেন, যাদের ঢাকার বাইরে বদলির সময় পার হয়ে গেলেও তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে শুধু এ ক্ষেত্রে বদলির যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মত দিয়েছেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, যখন পাঁচটি ব্যাংকে প্রশাসক ও তাদের সহযোগীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো, তখন বিআরডি থেকেই এইচআরডিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু বদলির সময় বিআরডিকে অবহিত করা হয়নি। এতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ ও আইনগত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাধারণ বদলি প্রক্রিয়ার অংশ। কোনও বিভাগই বাংলাদেশ ব্যাংকের বাইরে নয়। গভর্নরের নির্দেশে যেকোনও বিভাগ বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























