অর্থনীতিকে অস্থির করতেই অপপ্রচার
টাকা ছাপানোর গুঞ্জন ভুয়া—গভর্নরের দাবি
দেশে নতুন করে টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দেয়া হচ্ছে—এমন আলোচিত গুঞ্জনকে সরাসরি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপানোর যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তার ‘কোনও অস্তিত্বই নেই’ এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা।
শনিবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রকাশক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে গভর্নর এ মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)-এর এক সেমিনারে দাবি করা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দিচ্ছে—যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। সে বক্তব্য ঘিরেই অর্থনীতি মহলে উদ্বেগ ও বিতর্ক তৈরি হয়।
তবে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ বিষয়ে পরিষ্কার ভাষায় বলেন, টাকা ছাপানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ ধরনের তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না। তিনি সতর্ক করে দেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের তথ্য ছড়ানো হলে তা বিনিয়োগ, বাজার ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গভর্নরের বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে—বর্তমান অর্থনৈতিক চাপে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও তথ্যপ্রবাহ বাড়ানো না হলে এ ধরনের বিতর্ক বারবারই সামনে আসবে।
একই বৈঠকে অর্থনীতি নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত করে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত করতে হবে। অতীতে ভিন্নধর্মী চর্চার কারণে ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠকে পাচার হওয়া অর্থ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন গভর্নর। তিনি বলেন, বিদেশে চলে যাওয়া অর্থ ফেরত আনা অত্যন্ত কঠিন, তবে সরকার চেষ্টা করছে যাতে সে অর্থ কেউ ব্যবহার করতে না পারে।
সামগ্রিকভাবে এ আলোচনা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন শুধু বাস্তব সংকট নয়, তথ্যযুদ্ধের মধ্যেও রয়েছে। আর সে যুদ্ধে আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন নীতিনির্ধারকদের বড় চ্যালেঞ্জ।
সবার দেশ/কেএম




























