আমাকে ভেঙে ফেলা এতো সহজ নয়: বাঁধন
ইতালির ভেনিসে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার পর নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দুপুরের পর ফেসবুক লাইভে এসে তিনি জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় তিনি বিন্দুমাত্র ভেঙে পড়েননি। বরং ঘটনার আইনগত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভেনিস ছাড়বেন না বলে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন তিনি।
ফেসবুক লাইভে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাঁধন বলেন, অসংখ্য মানুষ ফোন ও বার্তা দিয়ে তার খোঁজ নিয়েছেন। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং নিজের মাথা কখনও নত করেননি উল্লেখ করে বলেন, তাকে দমানো বা ভেঙে ফেলা এতো সহজ নয়।
ইতালিয়ান পুলিশ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে অভিনেত্রী জানান, হামলার পরপরই স্থানীয় পুলিশ তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
বাঁধন জানান, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি থানায় যাচ্ছেন। তার দাবি, হামলাকারীদের কয়েকজনকে এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রমাণও রয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে ভূমিকার কারণেই হামলা
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিজের সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাঁধন।
নিজেকে একজন গর্বিত ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে নেয়া সঠিক সিদ্ধান্তগুলোর জন্য তিনি কখনও অনুতপ্ত হননি এবং ভবিষ্যতেও নিজের অবস্থান থেকে পিছিয়ে যাবেন না।
তবে নিজের ওপর হামলার চেয়েও ছোট ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের হেনস্তার ঘটনায় বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানান এ অভিনেত্রী।
বাঁধনের ভাষ্য,
তার ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী এবং তিন বছরের শিশুকে যেভাবে নিগৃহীত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ভেনিস ছাড়বেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
কী ঘটেছিলো ভেনিসে
চলতি সপ্তাহে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার দলের সঙ্গে ইতালিতে যান বাঁধন। উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক ‘অরিজন্তি’ বিভাগে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারে অংশ নেন তিনি।
পরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভেনিসের একটি এলাকায় ঘুরতে বের হলে কয়েকজনের হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন বাঁধন।
তার অভিযোগ, হামলাকারীরা নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে আখ্যা দেয়। এ সময় তার দিকে ডিম ও পানি ছুড়ে মারা হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বাঁধন জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
অভিনেত্রীর ভাষায়, এ হামলা তাকে দমিয়ে দিতে পারেনি। বরং ঘটনার শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সবার দেশ/কেএম




























