Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৪৯, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ভোটারদের রায়, শুরু পতনের অধ্যায়

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ভোটারদের রায়, শুরু পতনের অধ্যায়
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয় দেশটির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পাশাপাশি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ফলাফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক আধিপত্যের জন্য বড় ধাক্কা এবং তার শাসনামলের শেষ দুই বছর আরও কঠিন হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় ট্রাম্প ভোটারদের উদ্দেশে বারবার বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যেভাবে তাকে ভোট দিয়েছেন, এবারও সেভাবেই ভোট দিতে। এমনকি ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ব্যালট পেপারে যেনো তাকে উপস্থিত মনে করেই ভোট দেয়া হয়। প্রচারণাজুড়ে অন্তত ৪৭ বার তিনি এ ধরনের আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভোটাররা তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন ঠিকই, তবে ফলাফল এসেছে প্রত্যাশার বিপরীতে। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে বড় ধরনের জনসমর্থন তৈরি হওয়ায় রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এ সাফল্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা ‘ডেমোক্রেটিক ঢেউ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসা ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

এবারের নির্বাচনে ট্রাম্প নিজেই প্রচারণার প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন। প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে নির্বাচনী ইস্যু নির্ধারণ, প্রচারণার কৌশল ও রাজনৈতিক বার্তা—সব ক্ষেত্রেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিলো। ফলে রিপাবলিকানদের পরাজয়কে শুধু দলীয় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা; এর সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানেরও সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

বিশেষ করে রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যগত শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটের ফলাফল দলটির জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। ট্রাম্পের পছন্দ করা টেক্সাস ও সাউথ ক্যারোলাইনায় দুই সিনেট প্রার্থীর পরাজয় তার রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রার্থী নির্বাচনের কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

নির্বাচনে ভোটারদের অসন্তোষের পেছনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয়, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘায়িত যুদ্ধ এবং ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যের অভিযোগ।

নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি কমানো এবং নতুন কোনও যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প সাধারণ ভোটারদের সমর্থন পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তার শুল্কনীতি ও করসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রভাবে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে। এতে অনেক ভোটার নিজেদের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতও মার্কিন অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে। এসব কারণে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ট্রাম্পকে সমর্থন দেয়া ভোটারদের একাংশ এবার রিপাবলিকানদের ভোট দেননি। কেউ কেউ ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকেও বিরত থেকেছেন।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার সকাল পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে জাতীয় পর্যায়ে প্রাপ্ত মোট ভোটের হিসাবে ডেমোক্র্যাটরা প্রায় ১৩ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। ১৯৭৬ সালের পর কোনও কংগ্রেস নির্বাচনে একক দলের জন্য এটি সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যবধান ১৯৯৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং ২০১০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে রিপাবলিকানদের পাওয়া ঐতিহাসিক নির্বাচনী সাফল্যের ব্যবধানকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা জেরিম্যান্ডারিংয়ের কারণে জাতীয় পর্যায়ে ভোটের বড় ব্যবধান সব সময় আসনের সংখ্যায় একই অনুপাতে প্রতিফলিত হয় না। ফলে ডেমোক্র্যাটদের বিপুল ভোটের ব্যবধান সত্ত্বেও আসনসংখ্যার হিসাবে এর প্রভাব কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের হোয়াইট হাউসের রাজনৈতিক পরিচালক ডগলাস বি. সসনিক নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলেন,

এটি ট্রাম্প, রিপাবলিকান পার্টি এবং গত দুই বছরে তাদের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জনগণের স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি রাজনৈতিক রূপান্তরপর্বে প্রবেশ করছে, যা আগামী দুই বছর স্থায়ী হতে পারে। এ সময় দেশটির রাজনীতিতে আগের দুই বছরের তুলনায় আরও বেশি অস্থিরতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে পরাজয়ের দায় নিজের ওপর নিতে নারাজ ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্যালট পেপারে তার নাম ছিলো না বলেই রিপাবলিকানরা প্রত্যাশিতসংখ্যক ভোটারকে কেন্দ্রে আনতে পারেনি।

ট্রাম্পের এ ব্যাখ্যা অবশ্য তার দলের অনেক নেতার কাছেই গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, পুরো নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের উপস্থিতি ও প্রভাব ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি নিজেই প্রার্থী বাছাই করেছেন, প্রচারণার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করেছেন এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সরাসরি প্রচার চালিয়েছেন।

এদিকে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, এ ফলাফল কি দেশটির রাজনৈতিক অবস্থানের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নাকি ট্রাম্পের প্রতি সাময়িক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব কমে আসার ইঙ্গিত দিলেও তার গড়ে তোলা ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ম্যাগা সমর্থকগোষ্ঠীর প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। দেশটির রাজনীতিতে এ গোষ্ঠীর অবস্থান এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন বাধা তৈরি হতে পারে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে শক্তিশালী অবস্থান পাওয়ায় প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহির চাপও বাড়াতে পারবেন।

সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের এ ফলাফল ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদের আরও দুই বছর বাকি থাকলেও আগামী দিনগুলোতে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে বিরোধ বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব কতটা অটুট থাকবে, তা নির্ধারণে এ নির্বাচনের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

৭ নভেম্বরের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে
বাংলাদেশকে অভিবাসনের গন্তব্য করতে চান স্পিকার
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ভোটারদের রায়, শুরু পতনের অধ্যায়
সেন্টমার্টিনে আজ থেকে চলবে ৩ পর্যটকবাহী জাহাজ
নিশো-মেহজাবীনের ‘অপলক’
মেসি-রোনালদোসহ ২৬ তারকা ভোটযুদ্ধের মহড়ায়
ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা আক্তারুজ্জামানের ছেলে গুরুতর আহত
মেঘনা বিএনপির কমিটি নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ
ট্রাম্পকে ময়লার পাত্রে ফেললো ইরানি দূতাবাসের ভিডিও
হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক
তিতাসে নতুন দুই কূপ, দৈনিক মিলবে ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস
আমেরিকানরা ‘বিরক্ত’ হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প
গাজীপুর-সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়
কল্যাণপুরে বাস-লেগুনার সংঘর্ষ, নারীসহ নিহত ৪
আওয়ামী প্রেতাত্মা হাসানুজ্জামানকে দুদকের মহাপরিচালক নিয়োগ