মধ্যবর্তী নির্বাচনে চাপে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ক্রমেই চাপে পড়ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা, রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে নেতিবাচক জরিপ হোয়াইট হাউসে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রচারে ট্রাম্পকে যুক্ত না করার পরামর্শও দিয়েছেন তার দলের কয়েকজন উপদেষ্টা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসের পাশের একটি ডাইনিং রুমে টেলিভিশন দেখেন, ফোনে কথা বলেন এবং বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, প্রবন্ধ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করেন ট্রাম্প। ঘরটি ছাপানো কাগজ, সংবাদপত্রের কাটিং, পোস্টার ও বিভিন্ন নথিতে প্রায় ভরা। সেখানে তার সহকারী নাটালি হার্পের কাজ করার জন্যও অল্প জায়গা রাখা হয়েছে।
এ ঘরে কখনও কখনও কাজ করেন ফেডারেল হাউজিং ফিন্যান্স এজেন্সির প্রধান বিল পালটিও। তিনি ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি, ব্যঙ্গচিত্র ও প্রচারসামগ্রী প্রস্তুত করেন। সম্প্রতি ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের জন্য তৈরি একটি পোস্টার ট্রাম্পের প্রশংসা পেয়েছে। পোস্টারটি প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে প্রদর্শনের জন্যও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে প্রচারসামগ্রী, সমর্থকদের পাঠানো শিল্পকর্ম এবং সংবাদপত্রের কাটিংয়ের ভিড়েও নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ট্রাম্পের উদ্বেগ কমছে না। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের আশঙ্কা দলের প্রার্থীদের প্রচারকৌশল ও হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে প্রভাব ফেলছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রিপাবলিকান পার্টির অনেক প্রার্থী ট্রাম্পের নীতিমালা, আচরণ এবং তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট অভিযোগ থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র, সেসব জায়গায় ট্রাম্পের উপস্থিতি নির্বাচনী লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন কয়েকজন রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও রিপাবলিকান নেতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ কারণে কয়েকটি আসনে জনসভা ও প্রচারে ট্রাম্পকে অংশ না নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তার সহযোগীদের কেউ কেউ। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে দলীয় প্রার্থীদের ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প তার জনপ্রিয়তা নিয়ে নেতিবাচক জরিপ প্রত্যাখ্যান করছেন এবং সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিজের নেতৃত্বের প্রতি জনগণের সমর্থন প্রমাণ করতে দেশজুড়ে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। বুধবার ওহাইওতে তার এমনই একটি প্রচার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ট্রাম্পের বিশ্বাস, রিপাবলিকান পার্টির ওপর তার শক্তিশালী প্রভাব বর্তমান রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সহায়ক হবে। তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরে নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা।
নিউ ইয়র্ক টাইমস এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ১৬ জন সাবেক ও বর্তমান কর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে। তারা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা, দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ এবং কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ভবিষ্যতে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এসব বিষয় নিয়ে ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা চাপে রয়েছেন।
তবে হোয়াইট হাউস এ ধরনের উদ্বেগের বিষয়টি নাকচ করেছে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ড্যানিয়েল আলভারেজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ও তার সহযোগীরা নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। তার ভাষায়, হোয়াইট হাউসে একটি দলই রয়েছে, যারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন জনগণের জন্য কাজ করছে।
সবার দেশ/কেএম




























