কোরআনের আয়াত তুলে মুসলিমবিদ্বেষের নিন্দা বিল ক্লিনটনের
মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হেয় করা ও বৈষম্যের শিকার করার নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। মুসলমান হওয়ার কারণে মানুষকে অপমানিত হতে দেখাটা ক্লান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পরিচিতি ও বোঝাপড়া বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ফ্লোরিডার কোনোনিয়া ওয়ারশিপ সেন্টারে ‘মাল্টিপল ফেইথস, ওয়ান ফ্লোরিডা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিল ক্লিনটন এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন,
মুসলমান হওয়ার কারণে মুসলমানদের হেয় করা হচ্ছে—এটা দেখে আমি ক্লান্ত।
বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও বোঝাপড়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে গিয়ে কোরআনের সুরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন ক্লিনটন। ওই আয়াতে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ মানুষকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তারা পরস্পরকে চিনতে পারে। আয়াতটির বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বিভেদের কারণ না বানিয়ে একে অপরকে জানার ও বোঝার ওপর গুরুত্ব দেন।
ক্লিনটনের মতে, মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বা বিশ্বাসের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে কাউকে হেয় করা উচিত নয়। বরং ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের মূল্যায়নের বিরোধিতা করে তিনি বলেন,
প্রতিটি ধর্মেই খারাপ মানুষ রয়েছে, কারণ আমরা সবাই ত্রুটিপূর্ণ মানুষ।
তার এ বক্তব্যে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীদের সামগ্রিকভাবে নেতিবাচকভাবে বিবেচনা না করে ব্যক্তির আচরণ ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে বিচার করার বার্তা উঠে এসেছে।
বক্তব্যে পবিত্র কোরআনের প্রতি নিজের মেয়ে চেলসি ক্লিনটনের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এ প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, চেলসি ১৫ বছর বয়সে পুরো কোরআন পড়ে শেষ করেছিলেন। পরে বাবাকেও কোরআন পড়ার জন্য উৎসাহিত করেন তিনি।
বিল ক্লিনটনের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং মুসলিমবিদ্বেষ নিয়ে বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে মিশিগান থেকে মার্কিন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ঘিরে বিতর্কের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সায়েদ মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাকে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে। একই প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তাকে ‘জিহাদি’ বলে উল্লেখ করার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
এল-সায়েদকে ঘিরে এ বিতর্ক ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কোনও ব্যক্তিকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হেয় করা বা প্রমাণ ছাড়া উগ্রপন্থার সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগ গুরুতর বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
বিল ক্লিনটনের বক্তব্যে মূলত ধর্মীয় সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তার মতে, মানুষের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও একে অপরকে জানার ও বোঝার মধ্য দিয়েই পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত করা সম্ভব।
সূত্র: আল-জাজিরা, পিপলস গেজেট নাইজেরিয়া
সবার দেশ/কেএম




























