মেডিকেল রেকর্ড প্রকাশের দাবি
তানভীরের শরীরে অজ্ঞাত ইনজেকশনের অভিযোগ, জবাব চাইলেন নাহিদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতিপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তানভীরকে দেখতে যান নাহিদ। তার সঙ্গে ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
পরে ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, পুলিশি হেফাজতে তানভীর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। হাসপাতালে তার শারীরিক অবস্থা দেখে তারা মর্মাহত ও হতভম্ব হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট দেয়ার অভিযোগে করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তানভীরকে গত ৫ আগস্ট ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বগুড়ায় নেয়া হয়। ১০ আগস্ট বগুড়ার আদালত পুলিশের সাত দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে তিন দিনের রিমান্ড দেন।
নাহিদের দাবি, গ্রেফতারের পর তানভীরকে তার আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং রিমান্ডে নেয়ার পর তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। তার শরীরে অজ্ঞাত একটি ইনজেকশন দেয়া হয়েছিলো বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ। তার দাবি, ওই ইনজেকশনের পর তানভীরের শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায়।
নাহিদ আরও বলেন, তানভীরের আইনজীবীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়। তানভীরের আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি প্যানিক ডিজঅর্ডার, তীব্র মাথাব্যথা ও সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তানভীরকে এক বছরের জামিন দেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার হাসপাতালে নেয়া হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অপরাধ করলে কাউকে আইনের আওতায় এনে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হবে। তবে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় অজ্ঞাত ইনজেকশন দেয়ার অভিযোগ এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।
রিমান্ডে তানভীরকে কী ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়েছিলো, কোনও ইনজেকশন দেয়া হয়ে থাকলে সেটি কী, কে এবং কী কারণে তা দিয়েছিলো—এসব বিষয়ে সরকারের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন নাহিদ। একই সঙ্গে তানভীরের সম্পূর্ণ চিকিৎসা নথি প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
তানভীরের বিরুদ্ধে মামলাটি বগুড়া সদর থানা বিএনপির সভাপতি এইচএস মাফতুন আহমেদ খান রুবেলের করা বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























