গুমের প্রতিটি ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত ও বিচার চান নাহিদ
আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, তাদের পরিবারের কাছে ঘটনার সত্য তুলে ধরা এবং প্রতিটি গুমের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব দাবি জানান। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ আইনে গুমের অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিবৃতির শুরুতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে বাংলাদেশে গুমকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের ভয়াবহ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এ নৃশংসতার শিকার হয়েছেন বিরোধী দল ও ভিন্নমতের অসংখ্য নাগরিক। তাদের অনেকেই এখনও নিখোঁজ। বছরের পর বছর ধরে স্বজনদের অপেক্ষায় দিন কাটছে এসব পরিবারের।
‘আয়নাঘর’ নামের গোপন বন্দিশালায় অসংখ্য মানুষকে আটকে রেখে অমানবিক ও পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তার ভাষায়, এ ধরনের ঘটনা বিশ্ব মানবতাকে লজ্জিত করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গুম হওয়া স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি, পরিবারগুলোর দীর্ঘশ্বাস এবং বছরের পর বছর ধরে চলা অপেক্ষার বেদনার ওপর দাঁড়িয়েই ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে।
তবে গণঅভ্যুত্থানের পরও বহু পরিবার প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো গুমের শিকার অনেক মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি। মোংলায় মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করার মতো ঘটনা।
বর্তমান সরকারের সংসদে উত্থাপিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক।
তিনি বলেন, অতীতে গুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া হলেও বর্তমান উদ্যোগগুলোতে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের কার্যকর প্রতিরোধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিবর্তে দায়মুক্তির সুযোগ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গুমের প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশে গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান সম্ভব নয়।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন নাহিদ ইসলাম। তার দাবিগুলো হলো—মোংলায় গুমের শিকার মিরাজ শেখসহ আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ঘটনার সত্য তুলে ধরা, প্রতিটি গুমের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং গুম প্রতিরোধ আইনে অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান রাখা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বাংলাদেশে ভবিষ্যতে যেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের সংস্কৃতি ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, গুমের শিকার প্রতিটি মানুষের পরিবারের কান্নার জবাব দিতে হবে। সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
সবার দেশ/কেএম




























