Sobar Desh | সবার দেশ ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:৩৭, ৩০ মে ২০২৬

ক্রেতা না পেয়ে ব্যবসায়ীরা নদীতে ফেলে দিলেন চামড়া

ক্রেতা না পেয়ে ব্যবসায়ীরা নদীতে ফেলে দিলেন চামড়া
ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে লাভের আশায় শতাধিক গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন দুই মৌসুমি ব্যবসায়ী। কিন্তু উপযুক্ত দাম তো দূরের কথা, চামড়া কিনতে কোনও পাইকারি ব্যবসায়ী বা বেপারির দেখা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে সেগুলো নদীতে ফেলে দেন তারা। ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসনের নজরে আসে এবং অভিযুক্তদের সতর্ক করা হয়।

শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর গ্রামের কাটাখালি নদীতে চামড়াগুলো ফেলে দেয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত দুই মৌসুমি ব্যবসায়ী হলেন মোমারিজপুর গ্রামের খুরশিদ আলম ও দিদারুল আলম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে অতিরিক্ত আয়ের আশায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা শতাধিক গরুর চামড়া সংগ্রহ করেন। ধারণা ছিলো, পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে কিছু লাভ করতে পারবেন। তবে ঈদের দিন থেকে ক্রেতার অপেক্ষায় থাকলেও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কোনও পাইকারি ব্যবসায়ী তাদের কাছ থেকে চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখাননি। এতে হতাশ হয়ে তারা চামড়াগুলো নদীতে ফেলে দেন।

ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলার মাতুভূঞা এলাকার একটি সেতুর ওপর থেকে কয়েকজন ব্যক্তি গরুর চামড়া নদীতে নিক্ষেপ করছেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

খবর পেয়ে দাগনভূঞা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি পরিবেশ দূষণ এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চান।

এ সময় দুই ব্যবসায়ী নিজেদের ভুল স্বীকার করেন এবং প্রশাসনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তারা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে চামড়া বিক্রির চেষ্টা করেও কোনও ক্রেতা না পাওয়ায় এবং লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

ব্যবসায়ী খুরশিদ আলম বলেন, আমরা না জেনে, না বুঝে নদীতে চামড়া ফেলেছি। এটা করা ঠিক হয়নি। এতে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়ে আমাদের ধারণা ছিলো না। ভবিষ্যতে এমন ভুল আর করবো না।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম বলেন, অভিযুক্তরা তাদের ভুল স্বীকার করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মূলত আর্থিক ক্ষতি ও হতাশা থেকেই তারা এমন কাজ করেছেন। তারা যদি আগে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন, তাহলে চামড়া সংরক্ষণ ও বিপণনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া সম্ভব হতো।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নদীতে চামড়া ফেলে দেয়ার মতো ঘটনা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এতে পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টি ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই এ ধরনের কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে চলতি মৌসুমে কাঁচা চামড়ার বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন, সংগ্রহের খরচের তুলনায় বাজারে দাম অত্যন্ত কম হওয়ায় তারা লোকসান গুনছেন। ফলে চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোরবানির মৌসুমে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর সংগ্রহ ও বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

সমাজে একজন জিয়া গড়ে উঠলেই যথেষ্ট: ডেপুটি স্পিকার
১০ কোটি টাকা আমাকে দেয়া হয়নি, বরাদ্দ গেছে উপজেলায়: হাসনাত
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আজ
পঁচা চামড়ার দুর্গন্ধে নাকাল আমতলীবাসি
শার্শায় শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড পশ্চিমবঙ্গ, নিহত ৮
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
জুলাই আন্দোলনে মৃত্যুর তথ্য প্রত্যাহারে জাতিসংঘে হাসিনার চিঠি
ক্রেতা না পেয়ে ব্যবসায়ীরা নদীতে ফেলে দিলেন চামড়া
নবীন-প্রবীণের মিলনমেলায় মেঘনার শিক্ষা উন্নয়নে নানা প্রস্তাব
হজ শেষে দেশে ফেরা শুরু
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূয়সী প্রশংসা জাতিসংঘের
মেঘনার চরে ঝড়ে আটকা দুই শতাধিক পর্যটক
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী আজ