হোয়াইট হাউসের নৈশভোজে গুলি, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ট্রাম্প
ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক আয়োজন হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজ হঠাৎই পরিণত হলো আতঙ্কের রাতে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) গভীর রাতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এক বন্দুকধারীর হামলার চেষ্টায় মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় পুরো পরিবেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত অনুযায়ী, এক ব্যক্তি শটগান হাতে নিরাপত্তা বলয় ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং সিক্রেট সার্ভিসের এক এজেন্টকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
গুলিটি এজেন্টের শরীরে থাকা সুরক্ষামূলক গিয়ারে আঘাত করায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। তবে গুলির শব্দ ছড়িয়ে পড়তেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় ২ হাজার ৬০০ অতিথির মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকে টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন, কেউ আবার নিরাপদ স্থানের খোঁজে ছুটতে থাকেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে দ্রুত ডাইনিং হলে ঢুকে পড়ে সিক্রেট সার্ভিসের সশস্ত্র সদস্যরা। এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি প্রথমে মঞ্চের নিচে অবস্থান নেন। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিরাপত্তা বলয়ের ভেতর দিয়ে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।
ঘটনার পরপরই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, এটি ছিলো ‘এক অদ্ভুত সন্ধ্যা’, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি।
পরবর্তী পোস্টে তিনি আরও জানান, ফার্স্ট লেডি, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সবাই নিরাপদে আছেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেন তিনি।
এ ঘটনায় সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি জানান, মূল প্রবেশপথের স্ক্রিনিং এলাকার কাছেই গুলির ঘটনা ঘটে। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ও সিক্রেট সার্ভিস।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীর উদ্দেশ্য কী ছিলো তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এমন নিরাপত্তা ভাঙনের ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।
সবার দেশ/কেএম




























