শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ ও বাঙালি মুসলমানের আত্মপরিচয় নিয়ে সিম্পোজিয়াম
সাহিত্য পত্রিকা ‘তাইরান’-এর উদ্যোগে ‘সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ ও বাঙালি মুসলমানদের আত্মপরিচয়ের সন্ধান’ শীর্ষক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকার বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ লেখক কর্ণারে অনুষ্ঠিত এ সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন কবি সালেহ মাহমুদ।
কবি ও সম্পাদক আফসার নিজামের সভাপতিত্বে এবং ছড়াকার ফরিদ সাইদের সঞ্চালনায় নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক ও প্রাবন্ধিক প্রফেসর জসিমউদ্দিন। প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর এর বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনামূলক প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন তরুণ কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক শফিউল্লাহ আজাদ। প্রবন্ধকার জসিমউদ্দিন বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পাশাপাশি আলোচনায় উত্থাপিত সমালোচনার যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা দেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লেখক, গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক মনোয়ার শামসী সাখাওয়াত।
তিনি বলেন, ইলিয়াস শাহ কেবল কোনও একক জাতি বা গোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করেননি। তিনি সব শ্রেণি ও সব ধর্মের মানুষের কল্যাণে নিবেদিত ছিলেন। বাংলাকে তিনি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ভূমিতে উন্নীত করেছিলেন। তার সময়ে কৃষিভিত্তিক জনসমষ্টির সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
বিশেষ আলোচক নর্দান ইউনিভার্সিটির জিইডি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম বলেন, সুলতানকে নিয়ে এর আগে এভাবে আমরা তাত্ত্বিক আলোচনা করতে পারিনি। এ ধরনের পর্যায়ক্রমিক ও ধারাবাহিক আলোচনা আগামী প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাসের পাঠ উন্মোচনে সহায়তা করবে।

আলোচনায় কবি অহীন মাহবুব সুলতান ইলিয়াস শাহর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য দিক তুলে ধরেন।
কবি ও আবৃত্তিশিল্পী জেবুন্নেসা মুনীয়া বলেন, সুলতান ইলিয়াস শাহ বাংলার আলেকজান্ডার। আমরা তাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারিনি। তাকে মূল্যায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
আয়োজকের বিশেষ বক্তব্যে কবি, লেখক, সাংবাদিক ও ‘তাইরান’-এর সম্পাদক তাসনীম মাহমুদ বলেন, সচেতন কবি, সাহিত্যিক ও লেখকরাই সমাজের চিত্র অঙ্কন করেন। সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই জ্ঞান অর্জন ও শিকড়ের সন্ধানে তাদের পরিশীলিত চর্চা ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে।
সিম্পোজিয়ামে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন লেখক ও গবেষক এমদাদুল হক চৌধুরী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাসনীম রানা।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে জাতীয় পর্যায়ের আবৃত্তিশিল্পী কামাল মীনা নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন। জুলাই বিপ্লবের ওপর কবিতা আবৃত্তি করেন কবি আরিফ হোসেন সবুজ। এ ছাড়া সুলতান ইলিয়াস শাহকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি সুমন রায়হান।
সমাপনী বক্তব্যে সিম্পোজিয়ামের সভাপতি কবি ও সম্পাদক আফসার নিজাম অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, পাঠ ও পর্যালোচনার জন্য নির্ধারিত বিষয়ে গভীরভাবে স্টাডির কোনো বিকল্প নেই।
সিম্পোজিয়ামে আরও উপস্থিত ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক সাবরিনা সোবহান, নাট্যনির্মাতা হুসনে মোবারক, কবি আলতাফ হোসেন রানা, কবি নুরুল হক, ছড়াকার খান কাওসার কবির, কবি জাফর পাঠান, কবি ওয়াহিদুজ্জামান, লেখক আম্মার তাকি, কবি শাকিল সরকারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সবার দেশ/এফও




























