ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ৪ পুলিশ ক্লোজড
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে পুলিশের চার সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মো. মাসুদ আলম, যিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডিসি মাসুদ আলম জানান, শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথাকাটাকাটির জেরে দুই পক্ষের সামান্য বাড়াবাড়ির কারণে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানের সময় কাউকে আটক করা হলে আইন অনুযায়ী তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে কিছু পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হয়, আর কিছু না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া হয়। সাধারণত কারও সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করা হয় না বলেও তিনি দাবি করেন।
ডিসি মাসুদ আলম প্রশ্ন তোলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাতের অন্ধকারে নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার না করে কেন উদ্যানের ভেতরের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। তার মতে, রাত প্রায় ১০টার দিকে অন্ধকার এলাকায় চলাচল সন্দেহের কারণ হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, রাজু ভাস্কর্য এলাকায়। কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থী নাঈমুদ্দীন-সহ সাধারণ নাগরিকদের ওপর পুলিশের কথিত বর্বর হামলার বিচার দাবি করা হয়।
ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা অভিযোগ করেন, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নাগরিকদের ওপর শারীরিক আক্রমণ ও অসম্মানজনক আচরণ করা ফৌজদারি অপরাধ। তাদের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযান আইনসম্মতভাবে চালানো গেলেও প্রকাশ্যে মারধর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা আরও বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকেন্দ্রিক মাদক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও বড় চক্রের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। মাঝে মাঝে মোবাইল ক্যামেরা নিয়ে লোক দেখানো অভিযান চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এছাড়া শাহবাগ থানা সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চললেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
সবার দেশ/কেএম




























