Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬:৪৫, ২৪ মে ২০২৬

প্রজ্ঞা’র ওয়েবিনারে বক্তারা

শতভাগ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন এসডিজি অর্জন সহায়ক

শতভাগ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন এসডিজি অর্জন সহায়ক
ছবি: সংগৃহীত

নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বাংলাদেশে বর্তমানে নিবন্ধনের হার আশঙ্কাজনকভাবে কম, যার পেছনে রয়েছে আইনগত সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবায়ন দুর্বলতা।

শনিবার (২৩ মে) প্রজ্ঞা আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শক্তিশালী নিবন্ধন ব্যবস্থা: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)।

ওয়েবিনারে জানানো হয়, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ১৬.৯ অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধনসহ প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বৈধ পরিচয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেতে জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হওয়ায় এটি এসডিজি ১.৩ অর্জনের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

আলোচনায় উঠে আসে, মাতৃমৃত্যু পর্যবেক্ষণ, শিশুমৃত্যুর হার নির্ধারণ এবং রোগতত্ত্ব বিশ্লেষণে মৃত্যু নিবন্ধনের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষজ্ঞরা বলেন, মৃত্যুর কারণ সংক্রান্ত নির্ভুল তথ্য অসংক্রামক রোগ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্য পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি সময়মতো মৃত্যু নিবন্ধন রোগ নজরদারি ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও কার্যকর অবদান রাখে।

বক্তারা আরও বলেন, জন্ম নিবন্ধন শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি সহজ করে এবং সঠিক বয়স যাচাইয়ের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ফলে শিক্ষা ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক এসডিজি অর্জনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ওয়েবিনারে তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধনের হার মাত্র ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গড়ের তুলনায় অনেক কম। যদিও প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুর জন্ম হাসপাতালেই হয়, তবুও নিবন্ধনের দায়িত্ব মূলত পরিবারের ওপর বর্তায়। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের দায় না থাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ রাষ্ট্রীয় তথ্যভাণ্ডারের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এসডিজি অর্জনে নিবন্ধন আইন আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে আইন বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে হবে।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংশোধন করে ব্যক্তির পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর আইনি দায়িত্ব অর্পণ করা হলে সর্বজনীন নিবন্ধন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

প্রথম আলোর সহকারী বার্তা সম্পাদক পার্থ শঙ্কর সাহা বলেন, দেশের অর্ধেক মানুষ নিবন্ধনের বাইরে থাকা এসডিজি অর্জনের পথে বড় বাধা। গণমাধ্যমের দায়িত্ব এসব আইনি দুর্বলতা নীতিনির্ধারকদের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরা।

ওয়েবিনারে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা ও মূল উপস্থাপনা করেন সংগঠনটির কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।

সবার দেশ/কেএম

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

কান উৎসবে হোটেল কক্ষে নির্যাতনের শিকার ‘মিস ভেনেজুয়েলা’
‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’র ঠাঁই হলো পাকিস্তানে!
‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, ত্রিশাল হবে ‘নজরুল সিটি’
এনসিপিতে যোগ দিলেন মহিবুল্লাহ খোকন
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন
৪৭১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে মাউশি
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সীমান্তে ‘স্মার্ট বর্ডার’ গড়ছে ভারত
বিনা ভোটের নির্বাচন বিসিবি দিয়েই শুরু!
ঝটিকা মিছিল থেকে জঙ্গি আ.লীগের ২৬ নেতাকর্মী কারাগারে
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন আর নেই
শার্শায় শিশু ধর্ষণের চেষ্টায় একজন গ্রেফতার
ফ্রান্সে বিদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বৃদ্ধির ডিক্রি জারি
রামিসা হত্যা মামলায় ডিএনএ রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তার হাতে
প্রতিমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের
৪৭ বছর পর ধরার খাল পুনঃখনন, উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
কুষ্টিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, বাস খাদে পড়ে নিহত ৪
হাম মোকাবিলাই এখন অগ্রাধিকার, দোষীদের বিচার পরে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী