বিক্ষোভে উত্তাল প্যারিস, আটক শতাধিক
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে ফ্রান্সে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর জেরে রাজধানী প্যারিসে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বিপুলসংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। ছোট ছোট মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের অনেককে মুখে মাস্ক ও মাথায় হুডি পরা অবস্থায় দেখা গেছে।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়ায কয়েক দিন ধরে ফ্রান্সে ২০১৮ সালের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছিলো। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়।
প্যারিসে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হওয়া আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিলো।
আবার আলোচনায় ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন
ফ্রান্সে ২০১৮ সালে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করেছিলো। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া ওই আন্দোলন পরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ ছিলো আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে আন্দোলনটি আবারও সক্রিয় করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়। তবে এবারের আন্দোলনে জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থা ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে নতুন বিক্ষোভ
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ফ্রান্সে নতুন আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাখাতে বাজেট কমানোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে আন্দোলনের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি সেবা নিয়ে অসন্তোষও যুক্ত হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা ও জনসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
শ্রমিক ইউনিয়নের সমর্থন
ফ্রান্সের অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিটি নতুন বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ইউনিয়নটি সাধারণ মানুষের বেতন ও পেনশন বাড়ানো, মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের দাম কমানো এবং সরকারি সেবার পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
এদিকে ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে। দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভির খবরে লিঁও শহরের একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন দেয়ার কথা জানানো হয়েছে।
প্যারিসে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো এবং বিক্ষোভকারীদের আটকের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এবং সরকারি সেবা নিয়ে অসন্তোষের কারণে আন্দোলন কতটা বিস্তৃত হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
সূত্র: এপি, বিএফএমটিভি
সবার দেশ/কেএম




























