মোট প্রাণহানি ১৯
বৃষ্টি থেকে বাঁচতে গিয়ে মৃত্যু: করাচিতে ভবন ধসে ১৩ জন নিহত
প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ে বিধ্বস্ত করাচি-তে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে একটি জরাজীর্ণ ভবনে আশ্রয় নিতে গিয়ে, যেখানে ছাদ ধসে প্রাণ হারান ১৩ জন।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো।
সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে করাচির বালদিয়া টাউন-এর সাজ্জান গোঠ এলাকায়। সেখানে একটি পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের দেয়াল ও ছাদ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা জানান, নিহতরা বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে ওই জরাজীর্ণ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের অনেকেই মাদকাসক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের দ্রুত করাচি সিভিল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে এবং সেখানে চিকিৎসা চলছে।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলী শাহ। তিনি দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে, ঝড়ের সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কোরঙ্গী ৫ নম্বর এলাকায় গাছ পড়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। ক্লিফটন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে এক নারী নিহত হয়েছেন এবং দুইজন আহত হয়েছেন।
এছাড়া লান্ধির মজিদ কলোনিতে দেয়াল ধসে এক নারীসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং তিনজন আহত হয়েছেন। মালির নদীর কাছে ইয়ারু গোঠ এলাকায় বজ্রপাতে আরও একজন প্রাণ হারিয়েছেন। কোরঙ্গীর সেক্টর ৩.৫ এলাকায় একটি বাড়ির ছাদ ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়া লাঞ্জার এবং করাচির মেয়র মুর্তজা ওয়াহাব দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা জীবিতদের দ্রুত উদ্ধারে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় করাচি শহরজুড়ে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে, আকস্মিক এ ঝড়-বৃষ্টি করাচিতে একের পর এক দুর্ঘটনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে নিরাপত্তাহীন ভবন ও অবকাঠামোর ঝুঁকি আবারও সামনে এসেছে।
সবার দেশ/কেএম




























