অবস্থা আশঙ্কাজনক
রাউজানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ, যুবদলকর্মী গুলিবিদ্ধ
চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা ঘটেছে। ৪৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটা এ দ্বিতীয় হামলায় নাছির উদ্দীন (৪৫) নামের এক যুবদলকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমশের পাড়া গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ নাছির উদ্দীন ওই এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে। তিনি কোনও আনুষ্ঠানিক পদবীতে না থাকলেও স্থানীয়ভাবে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নাছিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
তাকে দ্রুত রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসাইন জানান, নাছিরের তলপেট ও পায়ে একাধিক গুলি লেগেছে। জখম এতটাই গুরুতর যে তার নাড়িভুড়ি বের হয়ে এসেছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউসারুজ্জামান নামের এক বিএনপি সমর্থককে গুলি করে হত্যা করা হয়। সে ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ৪৩ ঘণ্টার মাথায় আবারও গুলির ঘটনায় পুরো রাউজানে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩০ নভেম্বরও নাছির উদ্দীনকে কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে গিয়েছিলো দুর্বৃত্তরা। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে এলাকায় ফিরেছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, পাহাড় ও কৃষিজমি কেটে মাটির ব্যবসা এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত নাছিরের বিরুদ্ধেও হত্যাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে।
রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কারা এ হামলার সাথে জড়িত এবং এর মূল কারণ কী, তা উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের এসব ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























