Sobar Desh | সবার দেশ লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:২৯, ২৮ জুন ২০২৬

পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে

গেট খুলেছে ভারত, তিস্তাপাড়ে বন্যার শঙ্কা

গেট খুলেছে ভারত, তিস্তাপাড়ে বন্যার শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের গেট খুলে দেয়ার পর উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এতে তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় বন্যা ও নদীভাঙনের আশঙ্কায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, রোববার ভোর থেকে তিস্তার পানি ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেলের পর থেকে তা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

পানি বাড়তে শুরু করায় তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন চরাঞ্চলের বসতবাড়ি, নিচু এলাকা ও ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করেছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত বন্যায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এবং হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকা। এসব অঞ্চলের মানুষ সম্ভাব্য বন্যা ও নদীভাঙনের আশঙ্কায় নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যের বরাত দিয়ে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, তিস্তার পানি বর্তমানে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ার পর উজানের ঢল দ্রুত বাংলাদেশে প্রবেশ করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর পানির গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিস্তা ব্যারেজ কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে। এতে তিস্তা অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের ডালিয়া ব্যারেজ থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উজানে ভারতের নিয়ন্ত্রিত গজলডোবা ব্যারেজ অবস্থিত। বাংলাদেশ অংশে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলেও ভারতের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও দার্জিলিং জেলায় টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সে অতিরিক্ত পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গজলডোবা ব্যারেজের গেট খুলে দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তসর উদ্দিন বলেন, ভারতে বন্যা হলেই তিস্তাপাড়ের লাখো মানুষ আতঙ্কে দিন কাটান। কারণ উজানের অতিরিক্ত পানি গজলডোবা ব্যারেজ দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলে তার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশে পড়ে। ইতোমধ্যে তাদের এলাকায় পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষক মফিজ উদ্দিন বলেন, গজলডোবা ব্যারেজের কারণে তিস্তাপাড়ের মানুষ বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছেন। কখন পানি এসে ঘরবাড়ি ও ফসল ভাসিয়ে নিয়ে যায়, সে আতঙ্কে রাত কাটাতে হয়। তিনি দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান, যাতে নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

গেট খুলেছে ভারত, তিস্তাপাড়ে বন্যার শঙ্কা
চুম্বনের দৃশ্যে ‘কাট’-এর পরও থামেননি কঙ্গনা?
তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ চলতি অর্থবছরেই শুরু: পানিসম্পদমন্ত্রী
বিশ্বকাপের ইতিহাসে আফ্রিকার ৯ দেশ নকআউটে
হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে সৌদিতে নিহত ১৪
তুরাগে ‘সাত লাশ’ উদ্ধারের দাবি গুজব: ডিএমপি
শতভাগ জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, ফ্রি-কিকে মেসির জাদুকরী গোল
দ্বিতীয় দফায় ইরানে রাতভর মার্কিন হামলা
আজ সারা দেশে ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন
ব্রাজিলের কাছে ক্ষমা চেয়ে জাপান কোচ বললেন ‘আর্জেন্টিনাই সেরা’
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা ‘মামলার ব্যবসা’ করছেন: রুমিন ফারহানা
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি ৫৮৯
সমর্থকদের সঙ্গে ফুটবল খেললেন আর্জেন্টাইন রাষ্ট্রদূত