বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে আ.লীগ কর্মীদের ভূরিভোজ
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় এক বিএনপি নেতাকে মারধর ও তার কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হামলার পর ছিনিয়ে নেয়া অর্থ দিয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি গভীর রাতে ভূরিভোজের আয়োজন করেন। এ ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বোয়ালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত হন সফিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও মাংস ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান হাওলাদার এবং তার ভাতিজা মিরাজ হাওলাদার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পশ্চিম বোয়ালিয়া গ্রামের মোসলেম ব্যাপারীর বাড়ির সামনে পৌঁছালে আব্দুল মান্নান হাওলাদারের পথরোধ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেলিম ব্যাপারীর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং পরে লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে হামলা চালান।
হামলাকারীরা আব্দুল মান্নান হাওলাদার ও তার ভাতিজাকে মারধর করার পাশাপাশি তার কাছে থাকা ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ওই অর্থ দিয়ে রাতের শেষ প্রহরে একটি ভূরিভোজের আয়োজন করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর আব্দুল মান্নান হাওলাদারের ছেলে আল আমিন হাওলাদার বাদী হয়ে মুলাদী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সেলিম ব্যাপারী, জসিম ব্যাপারী, সফিক ব্যাপারী, হায়দার ব্যাপারী, স্বপন ব্যাপারী, দুলাল ব্যাপারী, কাসেম ব্যাপারী, আরিফ ব্যাপারী, শাহ আলম ব্যাপারী ও মিলন ব্যাপারীকে আসামি করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত সেলিম ব্যাপারী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ঘটনাটি ছিনতাইয়ের নয়। তিনি বলেন, আব্দুল মান্নান হাওলাদার রাস্তার ওপর কোরবানির চামড়া স্তূপ করে রাখায় এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিলো। এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভূরিভোজের অভিযোগ সম্পর্কেও তিনি ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তার ভাষ্য, ওই রাতে কোনও ভূরিভোজ হয়নি; বরং ব্যাপারী পরিবারের একটি পারিবারিক মিলনমেলা উপলক্ষে স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন ছিলো।
এ বিষয়ে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, মারধরের ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবার দেশ/কেএম




























