অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে উত্তাল রাজশাহী
যুবদল নেতার প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল নেতাদের হামলা
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় চাঁদা ও ব্যবসার শেয়ার দাবি করে যুবদলের এক নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। হামলায় আহত ওই যুবদল নেতাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতারা দাবি করেছেন, ব্যবসার মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে আহত আসাদুল ইসলামকে (৩৮) উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার গোয়ালকান্দি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আসাদুল ইসলাম গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান কমিটির সদস্য। এ ঘটনায় নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন এবং গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলমের নাম উল্লেখসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আসাদুল ইসলাম গোয়ালকান্দি বাজার ও আশপাশের এলাকায় ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসা পরিচালনা করেন। সম্প্রতি অভিযুক্তরা তার কাছে চাঁদা ও ব্যবসার অংশীদারিত্ব দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভাঙচুর চালান। এ সময় লোহার রড ও লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করে আহত করা হয়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর শুক্রবার সকালে আসাদুল ইসলাম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে দাবি করেন, এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদককারবারের প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল নেতা পারভেজ রানা ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালিয়েছে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা পারভেজ রানা। তার দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আসাদুল ইসলাম এক নারীর ডিশ ব্যবসা জোরপূর্বক দখল করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা করা হলেও তিনি ব্যবসা ফেরত দিতে বা বিনিয়োগের অর্থ পরিশোধ করতে রাজি হননি।
পারভেজ রানা বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে তারা আসাদুলের কাছে গেলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে আসাদুল ফেসবুকে লাইভে এসে অপহরণের অভিযোগ তুলে লোকজন জড়ো করেন। তবে তাকে মারধর বা গুরুতর আহত করার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা রুজু করা হবে বলে জানান তিনি।
সবার দেশ/কেএম




























