ধর্মীয় স্থানের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ মুসলিমদের
ভারতে উজ্জয়িনীর মসজিদে বুলডোজার, উত্তেজনা চরমে
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ সরানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য মসজিদের রাস্তার সীমানায় পড়া অংশ সরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় মুসলিমদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পাথর নিক্ষেপ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং একাধিক মামলা করেছে।
সোমবার সকালে উজ্জয়িনীর শাহী মসজিদ এলাকায় রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মসজিদের একটি অংশ সরানোর বিরোধিতা করে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি দল সেখানে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বলেছে, বিক্ষোভকারীদের একাংশ নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন এবং মসজিদসংলগ্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উত্তেজনা ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে।
মসজিদের অংশ সরানোর বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে বিরোধ ছিলো। মসজিদ কমিটি ও প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা শেষে রাস্তা সম্প্রসারণের সীমানায় পড়া অংশ সরানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিলো বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সোমবার মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকেও আদালতে প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতার কথা জানানো হয়। এর পর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ এ-সংক্রান্ত দুটি আবেদন নিষ্পত্তি করে।
প্রশাসনের বক্তব্য, ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলাকে সামনে রেখে উজ্জয়িনীতে রাস্তা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলছে। সে পরিকল্পনার আওতায় রাস্তার নির্ধারিত সীমানায় পড়া শাহী মসজিদের একটি অংশ সরানো হচ্ছে। পুরো মসজিদ ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
তবে মসজিদের অংশ সরানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে স্থানীয় মুসলিমদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করে আসছিলো। তাদের দাবি ছিলো, রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হোক এবং ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনাটি রক্ষা করা হোক। এ নিয়ে মসজিদ এলাকায় রাতভর অবস্থান কর্মসূচিও পালন করা হয়।
পুলিশের দাবি, সোমবারের সংঘর্ষে নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলপ্রয়োগ করে। পুলিশের হিসাবে, এ ঘটনায় সাতটি পৃথক মামলা হয়েছে এবং ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, মসজিদটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়েছে—এমন কিছু কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। এসব বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।
শাহী মসজিদ ঘিরে এ উত্তেজনা ভারতের ধর্মীয় স্থাপনা, নগর উন্নয়ন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্বেগকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। একদিকে প্রশাসন রাস্তা সম্প্রসারণকে উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে স্থানীয় মুসলিমদের একটি অংশ ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনার অংশ অপসারণের বিরোধিতা করছে। ফলে আদালতের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























