ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঝড়, ইসরায়েলজুড়ে রেড অ্যালার্ট
তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইসরায়েলি বিমান হামলার পরপরই ব্যাপক পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর থেকে ইসরায়েলের উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে দফায় দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। প্রায় সাত ঘণ্টার বিরতির পর শুরু হওয়া এ হামলায় দেশজুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে এবং সাইরেন অবিরাম বেজে চলেছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী Israel Defense Forces (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। প্রথমে উত্তরাঞ্চলে সাইরেন শোনা গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলের বীরশেবা ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ইসরায়েলেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।
আইডিএফের মুখপাত্র ইমানুয়েল ফাবিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দীর্ঘ বিরতির পর ইরান একযোগে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ—পুরো ইসরায়েল এখন ইরানি হামলার আওতায়। সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ আগেই তেহরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবং কুখ্যাত Evin Prison-এ ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। ইরান এই হামলাকে সরাসরি উসকানি হিসেবে দেখছে এবং তার জবাব হিসেবেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi সতর্ক করে বলেছিলেন, যে কোনো হামলার তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেয়া হবে।
বর্তমানে ইসরায়েলের আকাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ইসরায়েলি ইন্টারসেপ্টরগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিরোধমূলক লড়াই চলছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের এ দ্রুত বদলে যাওয়া পরিস্থিতি আঞ্চলিক সংঘাতকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।
সবার দেশ/কেএম




























