বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে শঙ্কা
হরমুজে ড্রোন হামলা: মার্কিন-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারে আগুন
বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী আবারও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এ প্রণালী দিয়ে চলাচলরত যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এটিএইচই নোভা’ নামের ট্যাংকারটি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের মালিকানাধীন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যৌথ হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এ আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। বাহিনীটির ভাষ্য অনুযায়ী, দুটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং হামলার পরও তা জ্বলতে দেখা গেছে।
এর আগে গত শনিবার আইআরজিসি ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান এ নৌপথ বন্ধ করে দিতে পারে। সে ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছিলো।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এ প্রণালী অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। এছাড়া কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) একই পথ দিয়ে রফতানি হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারে সরাসরি হামলা কেবল সামরিক বার্তা নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশলও হতে পারে। এ পথ বন্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, শিপিং খরচ বাড়া এবং জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
পরিস্থিতি ঘিরে এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনার কী জবাব দেয় এবং হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে জোরদার করা হয়—সেদিকে নজর রাখছে বিশ্ব।
সবার দেশ/কেএম




























