২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে আল্টিমেটাম
রাতের আঁধারে জঙ্গি ছাত্রলীগের পোস্টার, কঠোর হুঁশিয়ারি ডাকসুর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর পোস্টার লাগানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ডাকসু নেতারা।
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের-এর নেতৃত্বে শনিবার বিকেলে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা স্লোগান দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ডাকসু নেতাদের অভিযোগ, শুক্রবার রাতের অন্ধকারে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক স্থানে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি চাই’ লেখা পোস্টার সাঁটানো হয়। মধুর ক্যান্টিন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, কেন্দ্রীয় মসজিদ, কলাভবন সংলগ্ন এলাকা, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া, সমাজবিজ্ঞান চত্বর, চারুকলা অনুষদ, হাকিম চত্বর, শামসুন্নাহার হল, কার্জন হল ও জগন্নাথ হল এলাকায় এসব পোস্টার দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
ডাকসু আরও অভিযোগ করেছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে, যেখানে পোস্টার লাগানোর দৃশ্য দেখানো হয়েছে বলে তাদের দাবি।
বৈঠক শেষে এবি জুবায়ের বলেন, ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগানোর সাহস কীভাবে হয়—এ প্রশ্নের জবাব চান তারা। তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দায়ীদের শনাক্তের আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতেও ওই সংগঠনটি ক্যাম্পাসে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এবং প্রশাসনের অবহেলার কারণে এমন ঘটনা বারবার ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, পোস্টার কখন লাগানো হয়েছে তা জানা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দারোয়ানদের পরিচয় যাচাই করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং এস্টেট অফিসকে প্রয়োজনীয় তালিকা প্রস্তুতের কথা বলা হয়েছে।
ক্যাম্পাসের চারুকলা, কার্জন হল ও কলাভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দারোয়ান থাকার পরও কীভাবে পোস্টার লাগানো হলো, তা তদন্ত করে দেখা হবে বলেও তিনি জানান।
ডাকসু নেতারা সাম্প্রতিক সময়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাবনা, নরসিংদী ও রামপুরায় নারী ও শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তারা।
সবার দেশ/কেএম




























