ইশরাক শপথ ভঙ্গ করেছেন, দাবি জামায়াতের
মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পিস্তল উঁচিয়ে জনসমক্ষে উপস্থিত হওয়ার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এ ঘটনাকে ‘ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছে, এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দেয়া এক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে মাদকের বিস্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় পিস্তল উঁচিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ।
অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, অস্ত্র আইন অনুযায়ী, নিজের নিরাপত্তা ছাড়া বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন থাকা সত্ত্বেও একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া, জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা এবং তার দেহরক্ষীদের আগ্রাসী ভূমিকা অনভিপ্রেত, আইনবিরোধী ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সক্রিয় হওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকরভাবে তৎপর করা জরুরি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজের কর্মকাণ্ডের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে প্রকাশ করে জনমনে ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিপ্রায় প্রকাশ করেছেন। জামায়াতের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর মাধ্যমে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন।
বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন আচরণ অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।
বিবৃতির শেষাংশে সরকারের সব পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদক নির্মূলসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সবার দেশ/কেএম




























