বদলাচ্ছে পুরো অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরেই: শিক্ষামন্ত্রী
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে সংশোধন করা হচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও কারিকুলামও।
শনিবার (২ মে) এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক। তিনি বলেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৭ সাল থেকেই নতুন এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হতে পারে।
বর্তমানে প্রচলিত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈরী আবহাওয়া, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার সময়সূচি বারবার পিছিয়ে গেছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।
এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে বলেও মনে করছে সরকার। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন অ্যাকাডেমিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা যদি ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নিতে পারি, তাহলে সিলেবাস, কারিকুলাম, ক্লাস টেস্ট এবং বোর্ড পরীক্ষা—সবই একই বছরের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে। এরপর শিক্ষার্থীরা জানুয়ারিতেই উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হতে পারবে। এতে নির্ধারিত দুই বছরের মধ্যেই তাদের পাঠক্রম সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ডিসেম্বর মাসকে পুরোপুরি পরীক্ষার মাস হিসেবে নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যেই শিক্ষা বোর্ডগুলোকে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশ শেষ করতে হবে। ফল প্রকাশের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলেও জানান তিনি।
নতুন কারিকুলাম নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা ১৬ বছর বয়সে এসএসসি এবং ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করবে। এরপর কোনও সেশনজট ছাড়াই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে।
তবে নতুন সময়সূচি ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা থেকেই কার্যকর হবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেবাস শেষ করা এবং নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এহছানুল হক বলেন, এখন ২০২৬, ২০২৭, ২০২৮ কিংবা ২০২৯—এসব পরের বিষয়। আগে আমাদের ঠিক করতে হবে আমরা কী ধরনের শিক্ষা কাঠামো চাই। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ডিসেম্বরেই অ্যাকাডেমিক বছর শেষ করা এবং একই মাসে সব পরীক্ষা সম্পন্ন করা।
এদিকে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা প্রয়োজন। তাদের মতে, এতে শিক্ষার্থীদের সেশনজট কমবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
সবার দেশ/কেএম




























