তদন্তের ঘোষণা
বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ছাত্রশিবির ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে থাকা ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’–সংক্রান্ত একটি ছবি নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আপত্তি জানালে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি এবং একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আশিক মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এছাড়া ছাত্রশিবিরের কর্মী মেহেদী পিঠে আঘাতপ্রাপ্ত হন। আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আহত অন্য নেতা-কর্মীরা স্থানীয় বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার পর দুই সংগঠনই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে।
ছাত্রশিবিরের দাবি, প্রদর্শনীর কোনও ছবি নিয়ে আপত্তি থাকলে তা আলোচনা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধান করা যেতো। কিন্তু আলোচনার সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালান।
অন্যদিকে, ছাত্রদলের অভিযোগ, শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে ‘রাজাকারের ব্যানার’ টানানো হয়েছিলো। এর প্রতিবাদ করায় তাদের সহ-সভাপতি আশিককে রক্তাক্ত করা হয়েছে। ছাত্রদলের দাবি, এ ঘটনার মাধ্যমে ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে সহিংস রাজনীতির সূচনা করেছে।
রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা যায়, সংঘর্ষের পরও কয়েক দফা উত্তেজনা দেখা দেয়। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান নেন, আর ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, সংঘর্ষে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে শনাক্ত করা হবে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
সবার দেশ/কেএম




























