Sobar Desh | সবার দেশ ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:০৯, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিচার দাবি 

জিন্নাহর ছবি ছেঁড়াকে ‘মব’ বললেন ডাকসু নেতারা

জিন্নাহর ছবি ছেঁড়াকে ‘মব’ বললেন ডাকসু নেতারা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছবি টাঙানোর ঘটনাকে ‘মব’ হিসেবে উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ডাকসু নেতারা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব দাবি জানান তারা। উপাচার্য চীন সফরে থাকায় তার অনুপস্থিতিতে সহ-উপাচার্যের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষোভ ও দাবিগুলো তুলে ধরেন ডাকসু নেতারা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জিএস ও ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা এস এম ফরহাদ বলেন, সংগ্রহশালায় হামলা চালিয়ে ঐতিহাসিক সম্পদ ও ছবি নষ্ট করার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। তার দাবি, সংগ্রহশালা উদ্বোধনের আগে ডাকসুর সভাপতি হিসেবে উপাচার্য নিজেই দুবার সেটি পরিদর্শন করেছিলেন। ফলে সেখানে কী ধরনের ঐতিহাসিক প্রদর্শনী রাখা হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রশাসন অবগত ছিলো।

এস এম ফরহাদ বলেন, কোনও ছবি সরানোর প্রয়োজন থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকসুকে জানাতে পারতো। কিন্তু কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ছাড়াই সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি এ ঘটনাকে ‘মব’ হিসেবে উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রসঙ্গে ফরহাদ বলেন, বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্যের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই জিন্নাহর ছবি ও সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রদর্শন করা হয়েছিলো। এ ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য দেশের পাঠ্যবই এবং ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়েও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ঐতিহাসিক বিবরণ প্রদর্শনের কারণে যদি ডাকসুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়, তাহলে পাঠ্যবইয়ে এসব তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেবে কি না।

গত রোববার ডাকসু সংগ্রহশালা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর থেকেই এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। স্বাধীনতা আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার কোনও ছবি সেখানে না থাকা এবং এর বিপরীতে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি প্রদর্শন করা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা দেয়।

এর ধারাবাহিকতায় সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে জিন্নাহর ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা সেখানে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমের সামনে গোলাম আযমকে জুতাপেটার একটি ছবি টাঙিয়ে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।

বৈঠকে শুধু সংগ্রহশালার ঘটনাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তাদের সহায়তাকারী ডাকসু প্রতিনিধিদের উল্টো শোকজ করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন ডাকসু নেতারা। তারা এ ধরনের পদক্ষেপের কারণ জানতে চান।

এ ছাড়া শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিক ও ডাকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনার বিচারও দাবি করা হয়। হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

ডাকসু নির্বাচন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ডাকসুর মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে তারা কোনও ধরনের কালক্ষেপণ করতে চান না। দ্রুত নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।

ডাকসু নেতাদের এসব দাবির বিষয়ে সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ফজলুল হক মুসলিম হলের ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন আসন্ন সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন এবং পরবর্তীতে ছবি নষ্ট করার ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে সহ-উপাচার্য বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

শাহবাগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

৭ নভেম্বরের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে
বাংলাদেশকে অভিবাসনের গন্তব্য করতে চান স্পিকার
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ভোটারদের রায়, শুরু পতনের অধ্যায়
সেন্টমার্টিনে আজ থেকে চলবে ৩ পর্যটকবাহী জাহাজ
নিশো-মেহজাবীনের ‘অপলক’
মেসি-রোনালদোসহ ২৬ তারকা ভোটযুদ্ধের মহড়ায়
ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা আক্তারুজ্জামানের ছেলে গুরুতর আহত
মেঘনা বিএনপির কমিটি নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ
ট্রাম্পকে ময়লার পাত্রে ফেললো ইরানি দূতাবাসের ভিডিও
হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক
তিতাসে নতুন দুই কূপ, দৈনিক মিলবে ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস
আমেরিকানরা ‘বিরক্ত’ হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প
গাজীপুর-সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়
কল্যাণপুরে বাস-লেগুনার সংঘর্ষ, নারীসহ নিহত ৪
আওয়ামী প্রেতাত্মা হাসানুজ্জামানকে দুদকের মহাপরিচালক নিয়োগ