জামিন পেয়েই বাদীকে মারধর করলেন নোবেল
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে আটকে রেখে হেনস্তা, আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা এবং প্রায় ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় গ্রেফতারের পরদিনই জামিনে মুক্ত হয়ে বাদীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ‘সা রে গা মা পা’ খ্যাত সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল-এর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে সংবাদমাধ্যমের সামনে এ অভিযোগ করেন মামলার বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ অনন্যা।
অনন্যার দাবি, মঙ্গলবার জামিন পাওয়ার পর নোবেল তাকে বাসায় নিয়ে আবারও মারধর করেন। তার ভাষায়,
সে হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করে জামিন নিয়েছে। কিন্তু জামিন পাওয়ার পরই আমাকে মারধর শুরু করে। কেনো মামলা করেছি—এ অভিযোগ তুলে নির্যাতন করেছে।
এসময় তিনি সাংবাদিকদের সামনে তার হাতে থাকা আঘাতের চিহ্ন দেখান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মিডিয়ার সামনে নোবেলের আচরণ একরকম হলেও ব্যক্তিগত জীবনে সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিজেকে পরিস্থিতির শিকার দাবি করলেও বাস্তবে সে নেশাগ্রস্ত এবং সহিংস আচরণ করে, বলেন অনন্যা।
অনন্যার মা বিবি কুলসুমও একই অভিযোগ তুলে বলেন, জামিনের সময় নোবেল আপসের আশ্বাস দিলেও পরে আচরণ বদলে যায়। জামিনের পর মেয়েকে তার বাসায় নিয়ে গিয়ে মারধর করেছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি আবারও নির্যাতন করা হয়। আমাদের কাছে ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ আছে। খুব শিগগিরই আমরা আদালতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব, বলেন তিনি।
তাদের দাবি, নোবেল হুমকি দিয়েছেন—বাড়ির বাইরে বের হলে ‘দেখে নেবেন’। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ১৩ আগস্ট নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন অনন্যা। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পাশাপাশি বাদীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।
তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। ২ ফেব্রুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরবর্তীতে সোমবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে নোবেলকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়।
সেদিন আদালতে উভয়পক্ষের মধ্যে আপসের আলোচনা হয়। বিচারক জানতে চাইলে বাদী আপসের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে নোবেলের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় ২ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, বিয়ে করার শর্তে আপসের ভিত্তিতে জামিনে বাধা দেয়া হয়নি। তবে জামিনের পর বাদীর ওপর ফের নির্যাতনের ঘটনায় এখন জামিন বাতিলের আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।
সবার দেশ/কেএম




























