কানাডা থেকে এসে ‘মিশন’ সম্পন্ন অভিযুক্তের
বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ায় গায়িকাকে হত্যা
ভারতের পাঞ্জাবের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইন্দর কৌর ওরফে যশিন্দর কৌরের (২৯) রহস্যজনক নিখোঁজের অবসান হলো মর্মান্তিক পরিণতিতে। টানা ছয় দিন নিখোঁজ থাকার পর মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরে লুধিয়ানার নীলো খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কানাডাপ্রবাসী এক যুবক সুপরিকল্পিতভাবে নেপাল রুট ব্যবহার করে ভারতে এসে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই পুরো পাঞ্জাবি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে রাত সাড়ে আটটার দিকে নিজের ‘ফোর্ড ফিগো’ গাড়ি নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন ইন্দর কৌর। পরিবারের সদস্যদের তিনি জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনতে যাচ্ছেন। কিন্তু এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর বাসায় ফেরেননি।
গায়িকার ভাই যতিন্দার সিং জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তারা মোগা জেলার ভালোঁর গ্রামের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিং ওরফে সুখাকে সন্দেহ করছিলেন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে সুখবিন্দর ইন্দরকে বিয়ের জন্য মানসিক চাপ দিয়ে আসছিলো।
তদন্তে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ইন্দর ও সুখবিন্দরের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তবে কিছুদিন আগে ইন্দর জানতে পারেন, সুখবিন্দর ইতোমধ্যেই বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে। বিষয়টি জানার পরই ইন্দর তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং বিয়ের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
পুলিশের ধারণা, এ প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে পারেনি সুখবিন্দর। এরপর থেকেই সে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে এবং হত্যার পরিকল্পনা শুরু করে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, কানাডা থেকে সরাসরি ভারতে না এসে প্রথমে নেপালে যায় সুখবিন্দর। পরে সীমান্তপথে গোপনে পাঞ্জাবে প্রবেশ করে। গত ১৩ মে রাতে সহযোগীদের নিয়ে ইন্দর কৌরের গাড়ির গতিরোধ করে তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে হত্যা করে লাশ নীলো খালে ফেলে দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর একই নেপাল রুট ব্যবহার করে অভিযুক্ত আবার কানাডায় পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নিহত গায়িকার পরিবার। তাদের অভিযোগ, গত ১৫ মে জামালপুর থানায় সুখবিন্দর ও তার সহযোগী করমজিৎ সিং–এর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিলো। কিন্তু পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হয়তো ইন্দরকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সমরালার সিভিল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। বলবীর সিং জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের ধরতে বিশেষ অভিযান চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত সুখবিন্দরকে দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ভারতে অবস্থানরত তার সহযোগীদেরও শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
সবার দেশ/কেএম




























