দোয়া-মোনাজাতে সারাদেশে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালিত
দেশনেত্রীর ত্যাগ ও প্রেরণা বিএনপিকে পথ দেখায়: মির্জা ফখরুল
দোয়া, মিলাদ ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালন করেছে দলটি। শনিবার (১৫ আগস্ট) দিনভর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে চেক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ, সংগ্রাম ও প্রেরণা বিএনপিকে সব সময় পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য একটা আনন্দের দিন। এ দিনে সে নেত্রী জন্ম নিয়েছিলেন, যিনি বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশকে বারবার তার নেতৃত্ব ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন।
বিএনপিকে আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের এ দিনে আমরা সবাই এ শপথ নেব—বিএনপিকে আমরা সত্যিকার অর্থেই একটা আধুনিক গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যা সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।
খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে তিনি বলেন, মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা হচ্ছে, তিনি যেন বেগম খালেদা জিয়াকে বেহেশত নসিব করেন এবং তার আত্মাকে শান্তি দান করেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্যও দোয়া করেন তিনি।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ড. আব্দুল মঈন খান বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব (বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্য) রুহুল কবির রিজভী।
মোনাজাত ও দোয়া পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদস্যসচিব মাওলানা আবুল হোসেইন। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং সমাজকল্যাণবিষয়ক সহসম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর-উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে সুরা ফাতেহা পাঠ ও দোয়া-মোনাজাত করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
এর আগে দুপুরে সমাধিস্থলে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
এদিকে রাজধানীর মালিবাগে নিজ কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য সৈয়দ সাদাত আহমেদ। পরে তিনি গরিব ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন।
রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতেও বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করেন। এসব কর্মসূচিতে তার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন ও দেশের রাজনীতিতে তার ভূমিকা স্মরণ করা হয়।
খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদার দম্পতির তৃতীয় সন্তান ছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।
সবার দেশ/কেএম




























