Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:০৮, ২ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনের আগে আসামে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কমানোর ষড়যন্ত্র বিজেপির

নির্বাচনের আগে আসামে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কমানোর ষড়যন্ত্র বিজেপির
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ‘ডিলিমিটেশন’-কে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পরিকল্পিতভাবে সীমানা পরিবর্তন করেছে যাতে রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামের ১২৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে আগে প্রায় ৩৫টি আসনে মুসলিম ভোটার সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালের নতুন সীমানা নির্ধারণের পর সংখ্যা কমে ২০-এ দাঁড়িয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

নির্বাচনী বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদব এই প্রক্রিয়াকে ‘সাম্প্রদায়িক জেরিম্যান্ডারিং’ (Communal Gerrymandering) হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ১৮শ শতাব্দীর কৌশল ‘ক্র্যাকিং, প্যাকিং, স্ট্যাকিং’-এর সাথে তুলনা করেছেন।

ক্র্যাকিং: মুসলিম প্রধান এলাকাগুলোকে ভেঙে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের সাথে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে তাদের ভোটের প্রভাব কমে যায়।
প্যাকিং: একাধিক মুসলিম প্রধান এলাকা এক আসনে সীমিত করা হয়েছে, ফলে তারা একাধিক আসনের বদলে শুধুমাত্র একটি আসনে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্ট্যাকিং: হিন্দু জনবসতিকে একত্রিত করে নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন তৈরি করা হয়েছে।

কাটিগরার উদাহরণে দেখা যায়, আগে সমান সংখ্যক হিন্দু-মুসলিম ভোটারের আসন এখন হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠে পরিণত হয়েছে। বারপেটা ও বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি জেলা এমন প্রক্রিয়ার শিকার। সাবেক বিধায়ক আবদুর রহিম আহমেদ বলেন, মুসলিম ভোটাররা এখন তাদের কণ্ঠস্বর হারিয়েছে; সেখানে আর কোনও মুসলিম প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই।

বিজেপি অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে এটি নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তবে আসামের মন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বড়ুয়া এক নির্বাচনী প্রচারণায় বলেন, আমরা সীমানা এমনভাবে নির্ধারণ করেছি যে ‘মিয়াদের’ জেতার আর কোনও সুযোগ নেই।

আসামের জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ শতাংশ মুসলিম। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসামে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে, যা অন্য রাজ্যেও মডেল হতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইসলাম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। আইনজীবী নবব মেজবাহুল আলম বলেন, মনে হচ্ছে আমাদের হাত-পা আর মাথা আছে নড়াচড়ার জন্য, কিন্তু মুখটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া আসামের রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ফিটনেসবিহীন গাড়ির চালকের আসনে তারেক রহমান: হাসনাত
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ৪ আওয়ামী জঙ্গি শনাক্ত
এনসিপির শীর্ষ চার পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত, বদলাচ্ছে নেতৃত্ব
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ১২ সাবেক উপদেষ্টার নিন্দা
মুচলেকা দিয়ে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট ভিসি
ড. ইউনূসের হেনস্তার দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর: নাহিদ
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, সরকারের নিন্দা
ড. ইউনূস ভালো আছেন, কোনও ক্ষতি হয়নি: লামিয়া মোরশেদ
মোদিবিরোধী আন্দোলনে বাজলো হাসিনাবিরোধী প্রতিবাদী গান
পাখি আমদানির আড়ালে শত কোটি টাকা পাচার
ওয়ান ব্যাংকে অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ
বিএনপি’র সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ আর নেই
ইরানে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ
টেস্টে লিটন দাসের বিশ্বরেকর্ড
চুয়েটে ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ ১১ জন
নিউইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা