গ্যাস সংকটে থমকে ভারত, কাজ ফেলে গ্রামে ফিরছেন পোশাকশ্রমিকরা
ভারতের বস্ত্রশিল্পের প্রাণকেন্দ্র সুরাট এখন ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ার প্রভাবে এলপিজি সরবরাহে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এতে রান্নার গ্যাসের তীব্র অভাবে নাভিশ্বাস ওঠা হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক কাজ ফেলে দলে দলে শহর ছাড়ছেন।
সুরাটের বিশাল টেক্সটাইল শিল্প মূলত নির্ভরশীলিউত্তর প্রদেশ, বিহার ও ওড়িশা থেকে আসা শ্রমিকদের ওপর। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের চরম সংকটে এ শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। রান্না করতে না পেরে অনেকে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন, ফলে বাধ্য হয়ে নিজ নিজ গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন।
শহরের উধনা রেলস্টেশনে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে বাড়ি ফেরা শ্রমিকদের। অনেকেই বলছেন, কাজ থাকলেও শুধু খাবারের অভাবে তারা সুরাট ছাড়ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিক সংকটে ইতোমধ্যেই অনেক টেক্সটাইল কারখানা সপ্তাহে এক-দুই দিন উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। ছোট ও মাঝারি অনেক কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এভাবে শ্রমিক চলে যেতে থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের কাপড় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
এদিকে শ্রমিক কলোনিগুলোতে গ্যাসের জন্য হাহাকার চরমে উঠেছে। ১০-১৫ দিন লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। এ সুযোগে কালোবাজারে এলপিজির দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। যেখানে ৫ কেজির একটি ছোট সিলিন্ডারের দাম ছিল প্রায় ৫০০ রুপি, সেখানে এখন তা বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার রুপিতে।
এক নারী শ্রমিক সীমা দেবী জানান, এক সপ্তাহ আগে তাদের গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। বিকল্প হিসেবে কাঠের চুলায় রান্নার অনুমতিও নেই। হাতে থাকা টাকাও শেষ হয়ে আসায় সন্তানদের নিয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় দেখছেন না তিনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের এলপিজি আমদানির বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য নির্ভর। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। সরকার বিকল্প উৎস খুঁজলেও সমুদ্রপথে সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় সংকট দ্রুত কাটছে না।
টেক্সটাইল খাত সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু রফতানি নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। সামনে উৎসবের মৌসুমে কাপড়ের চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন কমে গেলে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
এ অবস্থায় সুরাটের শিল্পপতিরা সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে এলপিজি সরবরাহ বাড়ানো এবং বিশেষ ভর্তুকি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























