সীমান্ত পাহারায় নতুন কৌশল?
বাংলাদেশ সীমান্তে কুমির-সাপ মোতায়েন করবে ভারত!
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারে অস্বাভাবিক এক পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ভারত। দুর্গম নদীপথ ও জলাভূমি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া বসানো কঠিন হওয়ায় সেখানে কুমির ও সাপের মতো সরীসৃপ ব্যবহার করে প্রাকৃতিক বাধা তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ফেডারেল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের একটি বড় অংশ নদী ও জলাভূমি ঘেরা। এসব এলাকায় নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা দীর্ঘদিন ধরেই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিএসএফ একটি বিকল্প কৌশল হিসেবে সরীসৃপ ব্যবহারের ধারণা পরীক্ষা করছে।
গত ২৬ মার্চ বিএসএফের ইস্টার্ন ও নর্থ-ইস্টার্ন সেক্টরের সদর দফতরে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় নির্দেশ দেয়া হয়, যেসব নদীপথ, ছড়া বা জলাভূমিতে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করা সম্ভব নয়, সেখানে অপারেশনাল প্রয়োজনে কুমির বা সাপ মোতায়েন করা বাস্তবসম্মত কি না, তা মূল্যায়ন করতে।
এ পরিকল্পনাটি অনেকের কাছে অদ্ভুত মনে হলেও ইতিহাসে এর নজির রয়েছে। অতীতে দুর্গ বা প্রাসাদের চারপাশে পরিখা খনন করে তাতে কুমির ছেড়ে দিয়ে শত্রুর অনুপ্রবেশ ঠেকানোর কৌশল ব্যবহার করা হতো। আধুনিক সময়ে এসে সে ধারণারই এক ভিন্ন রূপ বাস্তবায়নের চিন্তা করছে ভারত।
একই ধরনের ধারণা অতীতে যুক্তরাষ্ট্রেও আলোচনায় এসেছিলো। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে মেক্সিকো সীমান্তে রিও গ্র্যান্ডে নদীতে কুমির বা সাপ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যদিও পরে সেটিকে তিনি রসিকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তবে ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি নীতিগত আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
কেনো এমন ভাবনা? সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিএসএফ বর্তমানে জনবল সংকট ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। প্রায় ৬ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার সদস্যের বড় একটি অংশ নিয়মিতভাবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, নির্বাচনসহ বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। ফলে সীমান্তে কার্যকর উপস্থিতি অনেক সময় কমে যায়।
এছাড়া বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য বয়সজনিত কারণে পুরোপুরি সক্ষম নন বলেও জানা গেছে। এ বাস্তবতায় সীমান্ত পাহারায় প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রকৃতিকেও ‘সহযোগী শক্তি’ হিসেবে ব্যবহার করার চিন্তা সামনে এসেছে।
ভারত ইতোমধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ‘ই-বর্ডার’ প্রকল্পের আওতায় ইলেকট্রনিক নজরদারি, সেন্সর ও ড্রোন ব্যবহারের কাজ এগোচ্ছে। তবে এখনও প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কোনও বেড়া নেই, যার মধ্যে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার নদী ও জলাভূমি হওয়ায় সেখানে প্রচলিত অবকাঠামো তৈরি প্রায় অসম্ভব।
এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে বিকল্প হিসেবে সরীসৃপ ব্যবহারের প্রস্তাব সামনে এসেছে। যদিও বিষয়টি এখনও প্রাথমিক যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে, তবুও এটি বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত নিরাপত্তায় এক নতুন ও বিতর্কিত অধ্যায় শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সবার দেশ/কেএম




























